আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুর খোঁজে মরিয়া তালেবান

অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান বিভিন্ন চ্যানেলে আঞ্চলিক এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার পরবর্তী ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। উপরন্তু নিকট প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুর খোঁজে মরিয়া তালেবান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগদান করে তালেবান সরকারের প্রতিনিধি দল। সেখানে তারা ইরান, চীন, রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এছাড়া তারা পশ্চিম এশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি আবু ধাবির নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কাবুলে তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজ উদ্দীন হাক্কানির সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সিরাজ উদ্দিন আফগানিস্তানের হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান যা দেশটির সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কাবুল তাদের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বা স্টানিকজাইয়ের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) নিয়ে সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। পাকিস্তান আফগান নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারিসহ আফগান শরণার্থীদের বহিষ্কার করেছে। ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাবুলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো ফল বয়ে আনবে না যতক্ষণ না তারা ‘মানবাধিকার, নারী শিক্ষা এবং নারীদের চাকরি সমস্যার সমাধান না করে।’

সুইডেনভিত্তিক আফগান বিশ্লেষক নুর রেহমান শেরজাদ বলেন, ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকার কোনো বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেনি। তিনি বলেন, যখন কোনো দেশ আরেক দেশকে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি না দেয়, তাদের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক এবং বৈধ স্ট্যাটাস থাকে না। তার মতে, তালেবান নেতৃত্ব এখন উপলব্ধি করছে– তাদের বিগত তিন বছরের নীতি কোনো উল্লেখযোগ্য ফল আনেনি। এ কারণে তারা এখন স্বীকৃতির জন্য মরিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights