আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ: বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মোঃ ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ মাঘ মাসের শেষ প্রান্তে এসে দিনাজপুর জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত আম গাছগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে মুকুল। জেলার সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, ফুলবাড়ী, ঘোড়াঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার আম বাগানগুলোতে এখন মধুর সুবাসে মাতোয়ারা পরিবেশ। উত্তরাঞ্চলের এ জেলার গাছগুলোতে এবার আগেভাগেই মুকুল ধরতে শুরু করেছে, যা আমচাষিদের মনে বাম্পার ফলনের আশা জাগিয়েছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে প্রায় ৫,৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়। জেলার সুস্বাদু জাতের আম যেমন গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম রুপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা এবং কার্টিমন দেশের বাজার ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে এ বছরের আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ হয়নি।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কিছু গাছে আবহাওয়াগত ও জাতের কারণে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের আগাম মুকুলের দেখা মেলে। যদি কুয়াশার প্রকোপ না বাড়ে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে এগুলোর ফলন পাওয়া যাবে। তবে নিয়মিত মুকুল আসা শুরু হলে তবেই স্থায়ী ফলন নিশ্চিত হবে।
দিনাজপুর সদর ৩নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের আম চাষি মালিক মো. শাহীনুর বলেন, আমার বাগানে প্রায় ২০০টি আমগাছ রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গাছে মুকুল এসেছে। আমি আশা করছি, যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, এবার বাম্পার ফলন হবে। তবে শীতের কুয়াশা আর কোনো রোগবালাই নিয়ে চিন্তায় আছি। ভালো ফলন হলে দেশের বাজার ছাড়াও রপ্তানির জন্য আম সরবরাহ করতে পারব।
অন্যদিকে, দিনাজপুর সদরের শহরাঞ্চলের কাঞ্চন কলোনির ছোট বাগান মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাগানে মাত্র ১৫টি আমগাছ। কিন্তু সব গাছেই মুকুল ধরেছে। আগাম মুকুল দেখে মনে হচ্ছে এবার ফলন ভালো হবে। যদিও ছায়াযুক্ত এলাকায় মুকুল স্থায়ী হয় কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে।
দিনাজপুরের বাগান মালিকরা আশা করছেন, যদি সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকে তাহলে এ বছর আম উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। স্থানীয় বাজারে আমের চাহিদা পূরণ করে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও দিনাজপুরের আমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। তবে তারা কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।
দিনাজপুরে আমের উৎপাদন সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এবারও আমের মুকুলে ছেয়ে যাওয়া দিনাজপুরের বাগানগুলো যেন সম্ভাবনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights