আলোচনার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক

জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু আলোচনা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তেহরানের বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত ওয়াশিংটনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলেরই অংশ এই নিষেধাজ্ঞা।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের চারজন ব্যক্তি, ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই নেটওয়ার্কগুলো ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ এবং তথাকথিত গোপন তেলবাহী নৌবহরের সাথে সরাসরি যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ইরান তাদের অপরিশোধিত তেল গোপনে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ দিয়ে অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের সাথে ইরানি প্রতিনিধি দলের চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এবারের আলোচনা ব্যর্থ হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত অস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে এই পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে এবং ইরানকে একটি বড় চুক্তিতে বাধ্য করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights