ইংল্যান্ড ফুটবল কি এখনও লুকা মদ্রিচকে ভয় পায়?

অনলাইন ডেস্ক

টটেনহ্যাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ক্রোয়েশিয়া থেকে মস্কো; দুই দশক ধরে লুকা মদ্রিচ যেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের এক চিরচেনা দুঃস্বপ্ন। ২০০৬ সালে যখন তিনি প্রথমবার থ্রি লায়ন্সের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টনি ব্লেয়ার, ফেসবুকের বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস আর বিশ্ব বুঁদ হয়েছিল ‘বোরাত’ সিনেমার উন্মাদনায়। দীর্ঘ ২০ বছর পর, মাঠের সেই চিরসবুজ জাদুকর আবারও প্রস্তুত থ্রি লায়ন্সদের স্বপ্নভঙ্গ করতে। এবার মঞ্চ ডালাস, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার এই কিংবদন্তি মহাতারকা ক্যারিয়ারের শেষ প্রহরে দাঁড়িয়ে আরও একবার মুখোমুখি হচ্ছেন থ্রি লায়ন্সদের।

ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে মদ্রিচের পথচলা যখন শুরু হয়, তখন কেউ ভাবেনি এই তরুণ মিডফিল্ডার একদিন একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তিতে রূপান্তর করবেন। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বহু স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী তিনি। ২০০৭ সালে ওয়েম্বলিতে স্টিভ ম্যাকক্লারেনের ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেওয়া সেই বিখ্যাত ম্যাচ কিংবা ২০১৮ সালের মস্কো বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন্সদের হৃদয় ভেঙে ফাইনালে ওঠার রূপকথা; সবখানেই অবিনশ্বর এক নায়ক হিসেবে দেদীপ্যমান লুকা মদ্রিচ। বহু খেলোয়াড় এসেছেন, চলেও গেছেন কিন্তু সময়ের গতিপথকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মদ্রিচ রয়ে গেছেন অদম্য এক ধ্রুবতারা হিসেবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে ৪১ বছরে পা দিতে যাওয়া মদ্রিচের এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দেশের জার্সিতে তাঁর ১৯৯তম ম্যাচ। সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বলছে, গতি আর তারুণ্যে ঠাসা টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবার হয়তো রক্ষণাত্মক কৌশলে মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া। বয়সের ভারে মদ্রিচ হয়তো তাঁর চেনা ধার কিছুটা হারিয়েছেন কিন্তু তাঁর লড়াকু মানসিকতা আর নেতৃত্বের জাদু এখনও ফুরিয়ে যায়নি। তাই ডালাসের নকআউট মঞ্চে তিনি যখন শেষবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, তখন ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে; এই ক্রোয়েশিয়ান জাদুকরকে খাটো করে দেখার ভুল অন্তত কোনো ইংলিশ সমর্থক করবেন না।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights