ঈদ ঘিরে মসলার বাজারে কারসাজি
ইমরান চৌধুরী
কোরবানি ঈদ ঘিরে প্রতি বছর দেশের মসলার বাজারে চাহিদা বাড়ে ৩০-৩৫ শতাংশ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও সিন্ডিকেটের কারসাজি শুরু হয়েছে। পাইকারি থেকে খুচরা সবখানেই মসলার দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো মসলার দাম। তবে এসব কারসাজি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে ক্রেতারাও বাড়তি দাম গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় মসলার বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার। সেখানে ঘুরে দেখা গেছে, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ, জিরা, জায়ফল, জৈত্রিক, শুকনা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলায় বাজার সয়লাব। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি মসলার দামে বাড়তি চাপ রয়েছে। মানভেদে প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিল ৫০ টাকা কম। লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বেড়ে ১৪০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত। গোলমরিচ ১২০০-১৩৫০, তেজপাতা ১৮০-২২০, হলুদ ২৫০-৪০০ এবং শুকনা মরিচ ৩২০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, আদা ১৮০-২০০ ও রসুন ১৫০-১৬০ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ঘিরে চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়ে। তবে মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল, নতুন করে তেমন কোনো অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়নি। মৌলভীবাজারের রাব্বি ট্রেডার্সের মালিক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ঈদে চাহিদা বাড়ায় জোগান অনুযায়ী দাম কিছুটা ওঠানামা করে। এখন আমদানি স্থিতিশীল। তবে বাজারে ক্রেতা কম। মিরপুর-১১ কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদের ওপর চাপ পড়ে। বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, মসলার বাজার কোনো সংকট নেই। দাম আগেরটাই আছে, বাড়ানোর সুযোগ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় প্রতি বছর এই সংকট তৈরি হয়।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম ৫ শতাংশ, লবঙ্গের ৩, এলাচের ৫, আদার ১৩, শুকনো মরিচের গড়ে ৩৫ এবং তেজপাতার দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও মসলা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। আমদানিও হচ্ছে নিয়মিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন (১৪ ধরনের মসলা)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ২ লাখ টন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে প্রতি বছর মসলার চাহিদা ৩০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এই সুযোগে বাজারে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও তারা কৃত্রিম চাপ তৈরি করে দাম বাড়ায়। তাদের কারসাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
