উড়ালসড়কে ফুলবাগান
আফজাল, টঙ্গী
গাজীপুরে নানা রঙের ফুলে সেজেছে উড়ালসড়ক। ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝখানে বিভিন্ন স্টেশনে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন ফুলের বাগান। গাজীপুর সিটি করপোরেশন সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনে এ উদ্যেগ নিয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পিচঢালা রাস্তার মাঝখানে প্রকৃতি যেন রঙিন গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর শিববাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ফুলের বাগানে থোকায় থোকায় ফুল ঝুলছে। বাহারি ফুলের শোভা পথ চলতে যে কাউকে মোহিত করে। এসব বাগানে কলাবতী, জবা, বকুল, হাসনাহেনা, কাঠবাদাম, চেরি, নাকা চূড়া, আলমেন্ডাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। বাগানে ফুটন্ত ফুলের দোল দেখে মনে হয় প্রকৃতির উষ্ণ অভ্যর্থনা। অপূর্ব সংমিশ্রণে ফুটে থাকা ফুলগুলো শুধু চোখ জুড়ায় না, যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির এক নিঃশব্দ বার্তা দেয়। ব্যস্ততমশুধু সৌন্দর্যই নয়, এসব গাছ পরিবেশ রক্ষা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এ মহাসড়ক এখন শুধু একটা পথ নয়; এটা যেন ফুলের বাগান। যেখানে প্রতিদিন প্রকৃতি নিজেই ফুলের ভাষা ও রঙের ছন্দে হাজারো মানুষকে অভ্যর্থনা জানায়। যাতায়াতের সময় যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে বা জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে এই রূপ উপভোগ করেন, আবার অনেকেই বিকাল বেলা বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন কিংবা ভিডিও করেন। টঙ্গী পাগাড় এলাকার বাসিন্দা নাজমুল মণ্ডল বলেন, উড়ালসড়কে ফুলের বাগান দেখলে মন ভরে যায়। যাত্রীরা নামলেই দেখতে পারবেন ফুলের বাগান। সৌন্দর্যবর্ধনে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে একটি চক্র বাগানের চারপাশের লোহার রেলিং চুরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে একটু নজর রাখতে হবে। যাতে বাগানের ফুল কিংবা লোহার রেলিং চুরি না হয়।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর শিববাড়ি পর্যন্ত ১৮টি স্টেশনে ফুলের বাগান নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি নির্মাণ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ধুলাবালু রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব বাগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সবুজায়ন ও ফুলের শোভা পথচারী ও পরিবহন যাত্রীদের মুগ্ধ করবে।
