একদিকে যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে, অন্যদিকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার গুনছে পুতিন

অনলাইন ডেস্ক

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম রাশিয়ার জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিদিন তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন।

কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস (কেএসই) ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চলতি মাসে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের শিথিল নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া ভারত ও চীনের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে রাশিয়ার তেল বিক্রি হচ্ছে।

যদি যুদ্ধ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হয়, তবে রাশিয়ার এ বছরের জ্বালানি আয় ২১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ ছয় মাস স্থায়ী হলে বার্ষিক আয় ৩৮৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা যুদ্ধপূর্ব প্রাক্কলনের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেশি।

পুতিনের পরামর্শ, এই অতিরিক্ত মুনাফা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হবে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ সাইমন জনসনের মতে, এটি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাবে না, বরং রাশিয়ার আয় বহুগুণ বাড়িয়েছে।

ভার্টেক্সা তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।

দ্য টেলিগ্রাফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights