এক সপ্তাহে কেরানীগঞ্জে ৫ মরদেহ উদ্ধার, জনমনে উদ্বেগ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া এলাকার ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত প্লট থেকে হাসিনা বেগম (৭০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলী, মমতাজ, রুহুল আমিন এবং কিশোরী তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হযরতপুর এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলীর, খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকা থেকে মমতাজ ও রুহুল আমিনের, কালিন্দী বালুর মাঠ থেকে তানজিলার এবং সর্বশেষ ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে ইকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা হাসিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। অপরাধীরা দ্রুত গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের মধ্যে ভয়ভীতি কমে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে। তারা পুলিশি টহল আরও জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রাজেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, আমরা এখন পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। সন্ধ্যার পর ঝিলমিল এলাকার রাস্তার দিয়ে যেতে ভয় লাগে। নির্জন স্থানে লাশ উদ্ধারের খবর শুনলেই আতঙ্ক কাজ করে। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। তাঁরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানান।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিলুল হক বলেন, আলোচিত সব কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য ইতিমধ্যে উদ্ঘাটন করা হয়েছে। খোলামোড়ার মমতাজ হত্যা, কালিন্দীর তানজিলা হত্যা এবং অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি ও টহলও বাড়ানো হয়েছে। কোনো অপরাধীই অপরাধ করে পার পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights