ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট প্রধান কোচ হিসেবে মাইক হেসনকে নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ড সফরে দলের টানা বিপর্যয়ের মুখে দুই মাস আগে হেসন টেস্ট দলের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
পিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মাইক বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পদে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, আগামী বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও হেসন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ড এবং হেসন উভয় পক্ষই খেলোয়াড়দের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
হেসন মূলত ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের হোয়াইট-বল প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে তার পূর্বসূরি সরফরাজ আহমেদকে বরখাস্ত করা হলে, তিনি টেস্ট দলের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় আগামী বছরের বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে হেসনের সম্পৃক্ততা পর্যালোচনা করা হবে। তখন এটিও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে টেস্ট দলের প্রধান কোচ কে হবেন।
যদিও পাকিস্তান ক্রিকেটে হেসন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পিসিবি তাকে দল নির্বাচনসহ ক্রিকেটের অন্যান্য বিষয়েব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে মতভেদ রয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমও স্বীকার করেছেন, দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার কোনো ভূমিকা নেই। এই বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক কমিটি দেখে থাকে। তিনি জানান, তার কাজ হলো তাকে দেওয়া ১৫-১৬ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা।
সূত্রটি জানায়, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে হেসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ক্রিকেটের সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হেসনের ওপর আস্থা রাখেন। তবে অনেক সাবেক খেলোয়াড় ও সমালোচক বিভিন্ন ফরম্যাটে দল ও খেলোয়াড়দের ঘনঘন পরিবর্তন করার প্রবণতার জন্য হেসনের সমালোচনা করেছেন।
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স কোচিং সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত খেলা নয়টি ম্যাচের মধ্যে দলটি মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে এবং সাতটিতে হেরেছে। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ একেবারে তলানিতে রয়েছে তারা।
