কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ: আমীর খসরু

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন আর কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। বিএনপি তাই সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কথা বলছে। শ্রমিক, কৃষকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, অধিকার, নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে অর্থনীতি ও রাজনীতি পরিচালনা করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে স্কুল অব লিডারশিপ, ইউএসএ’র বাংলাদেশ শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় দেশ দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকার ও জনগণের মধ্যে বর্তমানে কোনো সেতুবন্ধন নেই, যার কারণে পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

তিনি বলেন, দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থার অভাবে ভুগছেন। সম্প্রতি একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি; বরং বর্তমান বিনিয়োগকারীরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে, নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর থেকে জাপানিজ ডেলিগেশনসহ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা নড়াচড়া শুরু হয়েছে এবং তারা নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি এ নেতা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যা শুধুমাত্র রাজনীতিতেই নয়, অর্থনীতিতেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং এর ফলে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে বিএনপি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ স্লোগান দিয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে গণতন্ত্রায়ন হলেও অর্থনীতি যদি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেটে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র সফল হবে না। সত্যিকারের গণতন্ত্র তখনই কাজ করবে যখন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবার- সবক্ষেত্রেই গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিএনপি জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে এবং সমপরিমাণ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মাত্র এক শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে, যার একটি অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হচ্ছে। পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ একটি বিশাল অঙ্ক, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো কৃতিত্বের দাবিদার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের কৃতিত্ব। তিনি আরও বলেন, অতীত নিয়ে আলোচনা করে সময়ক্ষেপণ করার কোনো মানে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights