কমছে জমি, বাড়ছে কৃষকের চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের কৃষির মূলভিত্তি এখনো ক্ষুদ্র কৃষক। কিন্তু তাঁদের হাতে থাকা জমির পরিমাণ দিনদিন ছোট হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সীমিত জমিতে উৎপাদন ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প জমিতে বেশি ফলন নিশ্চিত করতে বাড়ছে শ্রম, সার, সেচ, উন্নত বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যবহার। ফলে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও কৃষকের ব্যয় ও পরিশ্রম বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ক্ষুদ্র কৃষকের গড় পরিচালিত জমির পরিমাণ মাত্র ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে বড় কৃষকের গড় পরিচালিত জমি ১২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কৃষকের গড় পরিচালিত জমির পরিমাণ ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ, যার মধ্যে গড় আবাদযোগ্য জমি ৬৪ শতাংশ। ক্ষুদ্র উৎপাদকরা যেখানে বছরে গড়ে ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা আয় করেন, সেখানে বৃহৎ উৎপাদকদের গড় আয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র কৃষক সীমিত জমিতেই দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত জমিতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার, যান্ত্রিকীকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে। এতে একই পরিমাণ উৎপাদন ধরে রাখতে কৃষকের অতিরিক্ত শ্রম ও ব্যয় বহন করতে হয়। বিবিএসের জরিপে আরও দেখা যায়, কৃষক পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা ৪ দশমিক ৩ জন। পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ সরাসরি কৃষিকাজে যুক্ত। বড় কৃষক পরিবারের ক্ষেত্রে এ হার ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ, আর ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের ক্ষেত্রে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও উৎপাদনব্যবস্থায় এখনো নানান সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ কৃষক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও রান্নার জ্বালানির ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার এখনো কাঠ, বাঁশ, ডালপালা, খড় বা অন্যান্য ঐতিহ্যগত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, ‘কৃষকের আয় বাড়াতে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, উৎপাদন ব্যয় কমানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণে এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। সীমিত জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত বীজ, সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকের জন্য সহজ ঋণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনের চাপ সামলানো সহজ হবে। অন্যথায় অল্প জমিতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও শ্রমের চাপ কৃষকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights