কাঁঠাল থেকে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু বিস্কুট
দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার। তাঁর এ উদ্যোগ ইতিমধ্যে ভোক্তাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। উৎপাদনের শুরু থেকেই কাঁঠালের বিস্কুটের চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা গ্রামের একটি কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুস সাত্তার।
মৌসুমজুড়ে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে আসার পর থেকেই অনলাইন ও অফলাইনে এর ভালো সাড়া মিলছে।
কাঁঠাল থেকে বিস্কুট তৈরী পরিকল্পনা আসে ভিন দেশে ভ্রমণ থেকে। আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। দেশে ফিরে অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের কথা ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকেই এবার কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন।
তিনি জানান, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কাঁঠালের স্বাদ ও সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। বর্তমানে ৮৫০ গ্রাম ওজনের একটি জার পাইকারি ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, চীন সফরে গিয়ে দেখেছি কাঁঠাল দিয়ে নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পাই। এবার সীমিত পরিসরে শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী মনে করেন, কাঁঠাল থেকে বেকারী পণ্য উৎপাদনে পুষ্টির চাহিদা মেটানোসহ কাঁঠাল শিল্প সমৃদ্ধ হবে। উদ্যোক্তারা ইচ্ছে করলে অল্প পূঁজি নিয়ে কাঁঠাল থেকে বেকারী পণ্য উৎপাদনে যুক্ত হয়ে নিজের আয় বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বলেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আব্দুস সাত্তারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
