কারাগারে ফুটবে ফুল
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
সিলেট মহানগরের ভিতরে উঁচু দেয়ালঘেরা ২৩৭ বছরের পুরোনো কারাগার। একসময় ১ হাজার ২০০ বন্দি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ কারাগারে গাদাগাদি করে থাকতেন কয়েক গুণ বেশি কয়েদি ও হাজতি। শতকোটি টাকা ব্যয়ে শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের পর এখন ‘ভারমুক্ত’ পুরোনো কারাগার। এবার কারাগারটি সিলেট নগরবাসীর জন্য নতুন অধ্যায় শুরু করছে। সরকার সেখানে নির্মল বিনোদনের জন্য নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। জাদুঘরটি হবে ডা. জুবাইদা রহমানের বাবার নামে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। উন্মুক্ত পার্কজুড়ে থাকবে সবুজ আর নানা জাতের ফুলের সমারোহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে পার্ক ও জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে কারাগারের জায়গাটি সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র জানান, বাংলাদেশের প্রাচীন কারাগারগুলোর মধ্যে সিলেট কারাগার অন্যতম। ১৭৮৯ সালে আসামের কালেক্টরেট জন উইলিয়াম প্রায় ১ লাখ রুপি ব্যয়ে সিলেট মহানগরের প্রাণকেন্দ্র ধোপাদীঘিরপাড়ে ২৪ একর জমির ওপর ১ হাজার ২১০ বন্দি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারটি নির্মাণ করেন। ২০১৯ সালে বাদাঘাট এলাকায় অত্যাধুনিক কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের পর শহরের অভ্যন্তরে পুরোনো কারাগারের মূল্যবান ভূমির ওপর চোখ পড়ে একটি চক্রের। বিভিন্ন সময় কারাগারের ওই জায়গার ওপর বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তা হতে দেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর সিলেট মেট্রো এলাকার কয়েদিদের ওই কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর যৌথ প্রচেষ্টায় কারাগারের স্থানে নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।
