কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজে হামলার ৪ দিনেও হয়নি মামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার ৪ দিনেও মামলা হয়নি। দুই পক্ষের দুটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, হামলার ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা আতঙ্কে আছেন। কলেজে উপস্থিতি কমে গেছে বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ।

গত বুধবার দুপুরে দৌলতপুর কলেজে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে বহিরাগতরা এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে কর্মচারীদের হামলাকারীরা মারধর করে। অধ্যক্ষের গাড়ি ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান সুমন দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিলেও তা এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ।
মামলা না নেওয়ায় অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান সুমন বিচার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। বলেছেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলার পর থেকে কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। তারা আতঙ্কে আছেন।

কলেজ অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান সুমন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবগত করতে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে এ ঘটনার দায় অধ্যক্ষের উপর চাপিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমানুল্লাহ আমান দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। সে সময় অধ্যক্ষ ও তার লোকজন অস্ত্র বের করে গুলি চালাতে যায়। এ ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকেও থানায় আলাদা অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই মিথ্যা মামলা জমা দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে, ভাঙচুর ও মারধর হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওসি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, দুটি অভিযোগই তদন্ত পর্যায়ে আছে। প্রকৃত ঘটনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights