কৌশলগত মজুত থেকে দ্বিতীয় দফায় তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নেই: আইইএ প্রধান
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এই মুহূর্তে কৌশলগত তেলের মজুত থেকে দ্বিতীয় দফায় তেল ছাড়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা করছে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
ফাতিহ বিরল বলেন, আইইএ বৈশ্বিক তেলের বাজারের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বর্তমানে কৌশলগত মজুত থেকে আরও তেল ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা বা আলোচনা নেই।
তিনি জানান, গত মার্চে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার পরও বিভিন্ন দেশের কৌশলগত মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনও অবশিষ্ট রয়েছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল ছাড়
মার্চে আইইএ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিমাণ তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ওই সময় মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল কৌশলগত মজুত থেকে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই ছিল সরকারি কৌশলগত তেল মজুত থেকে সবচেয়ে বড় এককালীন তেল ছাড়ের উদ্যোগ।
আইইএ’র ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর। সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
বাজারের দিকে নজর আইইএ’র
ফাতিহ বিরল বলেন, আইইএ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।
কৌশলগত তেলের মজুত সাধারণত বড় ধরনের যুদ্ধ, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে বাজারে তেলের ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হয়।
আইইএ’র সদস্য দেশগুলোতে থাকা এসব মজুত বৈশ্বিক তেল সরবরাহব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাবলয় হিসেবে কাজ করে। কোনও বড় উৎপাদনকারী দেশে সরবরাহ ব্যাহত হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে বাধা তৈরি হলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করে দাম ও সরবরাহের ওপর চাপ কমানো যায়।
দ্বিতীয় দফা তেল ছাড়ের জল্পনার মধ্যেই বক্তব্য
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে কৌশলগত মজুত ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই আইইএ প্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, অন্তত এই মুহূর্তে সংস্থাটি দ্বিতীয় দফায় তেল ছাড়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত বা আলোচনা করছে না।
তবে ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হলে কৌশলগত মজুত ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।
মার্চে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরও কৌশলগত মজুতের ৮০ শতাংশ অবশিষ্ট থাকার তথ্য বাজারে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইইএ সদস্য দেশগুলোর হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল মজুত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/একেএ
