খালি হচ্ছে শীর্ষ অনেক পদ

ওয়াজেদ হীরা
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ খালি হচ্ছে। এই শীর্ষ পদে কারা আসছেন, নাকি পুরনো কর্মকর্তারাই আবার চুক্তিতে নিয়োগ পাবেন তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে হচ্ছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে শীর্ষ পদে যেতে অনেকেই তদবির লবিংয়ে ব্যস্ত আছেন। নানাভাবে সরকারের প্রিয়ভাজন প্রমাণে ব্যস্ত। সরকারের বর্তমান ও সাবেক আমলারা মনে করছেন চুক্তি নিয়োগ হলে নিচের কর্মকর্তারা আশাহত হয় স্বপ্ন ভেঙে যায়। এসব চুক্তি খুব প্রয়োজন না হলে না করাই উচিত। জানা গেছে, কয়েক মাসের মধ্যে প্রশাসনের শীর্ষ পদ মন্ত্রিপরিসদ সচিব, মুখ্য সচিব, জননিরাপত্তা, বাণিজ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, প্রতিরক্ষা দায়িত্বে থাকা সচিব/সিনিয়র সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এসব পদের পাশাপাশি পুলিশের শীর্ষ পদ আইজিপি ও র‌্যাব প্রধানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমলাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে কারা আসছেন সে খবর রাখছেন অনেকেই। প্রশাসনে শীর্ষ পদ হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর পরেই রয়েছে মুখ্য সচিবের পদ। এই দুটি পদের দায়িত্বে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আছেন। এর মধ্যে প্রশাসনের অষ্টম ব্যাচের কর্মকর্তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ অক্টোবর। এর আগেই আগামী মাসের ২৫ জুন শেষ হবে মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তি নিয়োগের মেয়াদ। গত বছর চাকরির মেয়াদ শেষ হলে ১ বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি, গত বছরের ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহবুব হোসেন গত বছর জাতীয় নির্বাচনের আগে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দুই পদে নতুন মুখ এলে সিনিয়রের ভিত্তিতে হলে নবম ও দশম ব্যাচ থেকে আসবে। সে হিসেবে পাঁচজন কর্মকর্তার নাম আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন দফতরে। শীর্ষ ওই দুই পদ ছাড়াও চলতি মে মাসে চার মন্ত্রণালয়ের সচিবের চুক্তির মেয়াদ বা চাকরির বয়স শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে ১৭ মে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের। এ ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৯ মে। ২৩ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। যিনি গত বছর থেকে চুক্তিতে আছেন। এ ছাড়াও চলতি মাসের ৩০ তারিখ এক বছরের চুক্তিতে থাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলমের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রশাসনে ক্যাডারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পদও খালি হচ্ছে। পুলিশ প্রধান হিসেবে কোনো ব্যক্তি এর আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পায়নি। সে হিসেবে আইজিপি সৌভাগ্যবান আবদুল্লাহ আল-মামুন। গত বছরের ১১ জানুয়ারি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান দেড় বছরের জন্য। মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ১১ জুলাই। পুলিশের আইজিপি হিসেবে ১২ ও ১৫ দুই ব্যাচের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় থাকলেও ১৫ ব্যাচের এক কর্মকর্তাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এদিকে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ জুন। র‌্যাবের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন সেটি নিয়েও পুলিশের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ অনেক চেয়ার খালি হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে তদবির লবিং করছেন অনেক কর্মকর্তা। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও আস্থাভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদিও শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসবে সেটি নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

সরকারের একাধিক সচিব জানিয়েছেন, সরকারের ওপরের দিকে খালি হলেই নিচ থেকে ওপরে ওঠা যায়। যারা ছিলেন তারা নিঃসন্দেহে মেধাবী তবে যারা ওই দায়িত্ব পাবেন তারাও সেরাটা দিতে পারবেন। কিন্তু দায়িত্বই যদি না পান তাহলে বুঝবেন কী করে যে কে ভালো। তাছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে সচিব হতে পারছে না। ওপরে খালি হলে অনেকেই চাকরি জীবনের সেরা অর্জন বা স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। যদিও কে কী হবে সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার যাকে একান্ত প্রয়োজন মনে করবে তাকে চুক্তিতে নিয়োগ করে, এটা আইনে আছে। চুক্তি নিয়োগ একটা ব্যতিক্রম বিষয়। সাধারণত চুক্তি হয় না, হওয়াটা ব্যতিক্রমী বিষয়। যাদের প্রয়োজন শুধু নয় ‘একান্ত প্রয়োজন’ এবং সরকারের স্বার্থে মনে করলে এটি হয়। যাদের অপরিহার্য মনে করবে, অপরিহার্যতার ওপরে এটি হয়ে থাকে। সরকারের সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চুক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্তটা সরকারের। তবে এটি চুক্তি হলে নিচে চারটি পদোন্নতি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা বিসিএস অ্যাসোসিয়েশন সবসময় চুক্তি নিয়োগের বিপক্ষে। যারা চুক্তি নিয়োগ পান তাদের যে কোনো সময় চুক্তি বাতিল হতে পারে এ শঙ্কায় সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, নায্য সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। চুক্তি বর্জন করা উচিত, কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রত্যেকেই পদোন্নতির আশায় চাকরিতে যোগ দেন যারা পান না তারা নিরুৎসাহিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights