গণঅভ্যুত্থানে নিখোঁজ : মরদেহ শনাক্তে ঢাকা মেডিকেলে দুই পরিবার

ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময়ে নিহত পরিচয়হীন এক নারীসহ সাত মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

এদিকে, জুলাই বিপ্লবের সময় থেকে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে দুই পরিবার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আজ রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আসেন নিখোঁজের স্বজনরা। তারা মনে করছেন, মর্গে রাখা সাত মরদেহের মধ্যে তাদের স্বজন থাকতে পারে। সেখানে মরদেহ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে থাকা সাত মরদেহের মধ্যে ছয়টি মরদেহের বিষয়ে দেখছি আমরা। আরেকটি দেখছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

তিনি বলেন, ‌আমাদের কাছে একটি পরিবার এসেছিল। তারা মরদেহ দেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের নিখোঁজ স্বজনের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। আমরা পেয়েছি ওই মরদেহের বয়স ৩০ বছর।’

ওসি বলেন, ‘যদি কেউ মরদেহ দেখে শনাক্ত করতে পারেন। তারপর ডিএনএ-র সাবজেক্ট আসে। আগে শনাক্ত করুক পরে ডিএনএ করা হবে।

নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী সেলিনা বেগম ঢামেক মর্গে এসে জানিয়েছেন, তার নিখোঁজ স্বামীর নাম কাবিল হোসেন, বয়স ৬০ বছর। তিনি মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।

তিনি জানিয়েছেন, মৃতের মুখে দাড়ি, চেক লুঙ্গি পরা ছিল।

তিনি বলেন, ফেসবুকে দেখে জানতে পেরেছেন, ঢামেক মর্গে বেশ কিছু মরদেহ পরিচয়হীন অবস্থায় পড়ে আছে। পরে মর্গে আসি।

কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার কায়েকখালী গ্নামের বুলু মিয়ার ছেলে কাবিল। মুগদায় থাকতেন। এক ছেলে এক মেয়ের জনক কাবিল।

নিখোঁজ আরেকজনের চাচা নুরে আলম জানিয়েছেন, তার ভাতিজার নাম মো. হাসান (১৯)। তাকে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে আসছেন। পাচ্ছেন না।

ভোলা সদর উপজেলার বাগচির গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মো. হাসান। যাত্রাবাড়ীর সুতি খালপাড় বালুর মাঠ এলাকায় থাকতেন তিনি। তিনি কাপ্তান বাজারে একটি ইলিকট্রিক দোকানের কর্মচারী ছিলেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার বাবা গ্রামে কৃষিকাজ করেন।

মনির হোসেন ঢামেক মর্গে মরদেহ দেখেছেন, মরদেহটি তার ভাতিজার চেহারার সাথে অনেকটাই মিল রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ফেসবুকে দেখেছি, একটি ছেলের পায়ে তার পেঁচানো ছিল। হালকা দাড়ি, পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ছিল। মনে হয়েছে, সেই আমাদের হাসান। আমরা এসে মরদেহ দেখেছি। তারও পায়জামা পরা পাওয়া গেছে। তার পেঁচানো রয়েছে, হালকা দাড়িও রয়েছে। এছাড়া কাটা দাগও ছিল, কিন্তু সেটা পাওয়া যায়নি, মরদেহ অনেকটা পচে গেছে। চেহারা দেখে বুঝা না গেলেও আমরা মনে করছি সেই আমাদের হাসান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেলের সদস্য নাফিসা ইসলাম শাকাফি বলেন, ‘আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ঢামেক মর্গে রাখা সাত মরদেহ সনাক্ত হয়নি। পরিবার যদি শনাক্ত করতে পারে, তাদের ডিএনএ-র নমুনা দেওয়া থেকে শুরু করে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা তাই করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights