গবেষণাগারেই মানুষের মেরুদণ্ড বানালেন বিজ্ঞানীরা?

অনলাইন ডেস্ক

এবার গবেষণাগারে ‘মানুষের মেরুদণ্ডের’ গঠন তৈরির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে একটি নটোকর্ড তৈরি করেছেন ‘ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট’-এর গবেষকরা। মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নটোকর্ড, যেটি কেবল ভ্রুণ অবস্থায় মানবদেহে পৃষ্ঠদেশ বরাবর থাকে ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় রূপান্তরিত হয় মেরুদণ্ডে।

গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশ পেয়েছে। এতে বিশদভাবে উঠে এসেছে মানবদেহের মেরুদণ্ডের বিকাশ এবং নিউরাল ও হাড়ের স্টেম কোষের বিষয়।

দণ্ডাকার এক ধরনের টিস্যু নটোকর্ড, যা দেহে ভ্রূণের বিকাশের সময় কাঠামোগত গাইড হিসাবে কাজ করে। একইসঙ্গে মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য টিস্যুও গঠন করে এটি।

এ গবেষণায় নটোকর্ডের গঠন ডিকোড করার জন্য মুরগির বিভিন্ন ভ্রূণ বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। যার ফলে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেতের একটি সুনির্দিষ্ট ক্রম। আর এ বিষয়টিই মানবদেহের বিভিন্ন স্টেম কোষকে কাঠামো গঠনে সাহায্য করেছে।

এরই ফলে গঠিত হয়েছে এক থেকে দুই মিলিমিটার আকারের ছোট ‘ট্রাঙ্ক বা মেরুদণ্ডের মতো’ অঙ্গ। এ গবেষণার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি ও আন্তঃভার্টিব্রাল ডিস্কের অবস্থা নিয়ে আরও গবেষণার দ্বার খুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ‘সায়েন্স টেক ডেইলি’।

গবেষকরা বলছেন, মানবদেহের টিস্যুকে সংগঠিত করে এমন রাসায়নিক সংকেত পাঠানোর মাধ্যমে নটোকর্ডের সক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে বিকাশ করা যেতে পারে, যা মানুষের বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন রোগ বোঝার ক্ষেত্রে খুলে দেবে নতুন পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights