গরুর দেশী জাতের পরিবর্তে আধুনিক জাত দরকার নেই: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গরুর দেশী জাত হারিয়ে আমাদের আধুনিক জাত দরকার নেই। দেশী জাত রক্ষা করে আমরা যেন দুধ ও মাংস উৎপাদন করতে পারি, সেলক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

আজ সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ‘দেশীয় গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতির পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশীয় জাতের গবাদিপশু হারিয়ে যাচ্ছে কথাটা ঠিক নয়। উন্নত জাতের কথা বলে বিদেশি নানা জাত আনা হয়েছে। বলা হয়েছে ফ্রিজিয়ান আর ক্রসব্রিড ছাড়া উপায় নাই-এটা মূলত: প্রশ্নবিদ্ধ কথা। দেশীয় গরু হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হবে। এটা ঠেকানোর জন্য আমরা একটা রোডম্যাপ নিতে পারি যা খুবই জরুরি। আমরা বিদেশি নানা জাত নিয়ে আসছি, ওটা টেকসই না। এর পেছনে অনেক সময়, শ্রম ব্যয় করছি, কিন্তু তা টিকছে না।’

দেশীয় জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ করতে পারলে মন্ত্রণালয়ের নামকরণ সার্থক হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি জাত যারা প্রমোট করেছেন, তারা দেশীয় গরুর জাতের বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন। এখন বলছেন, খামারিরা কিছু বুঝে না। দেশীয় জাত সংরক্ষণ করতে পারলে প্রাণিসম্পদ নামকরণ সার্থক হবে। সিমেন (বীজ) এখন ব্যবসার পর্যায়ে চলে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, দেশের এক অঞ্চলের মানুষের সাথে অন্য অঞ্চলের মিল নেই, এমনকি খাওয়া-দাওয়া স্বভাবে মিল নেই। আমরা মানুষেরা অঞ্চলে ভাগ হয়ে আছি। তাহলে প্রাণীরাও তাই, আল্লাহর সৃষ্টি। জোন ভিত্তিক দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণে আমাদের প্রকল্প নিতেই হবে। দেশীয় জাত পালনে আমাদের প্রণোদনা দিতে হবে। দেশীয় জাত পালনে এই সুবিধা দেওয়া হলে কৃষকেরা অবশ্যই দেশীয় জাত পালন করবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বয়জার রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ শাহজামান খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃত্রিম প্রজনন দফতরের উপ-পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

সেমিনারে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights