ঘরে বসেই নাগরিক সেবা: গাজীপুর সিটিতে নতুন অটোমেশন সফটওয়্যার চালু

গাজীপুর প্রতিনিধি

হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আর সিটি করপোরেশনের দপ্তরে বারবার ছুটতে হবে না নগরবাসীকে। ঘরে বসেই আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, ফি পরিশোধ এবং সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে চালু করা হয়েছে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স সেবা অটোমেশন সফটওয়্যার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে সফটওয়্যারটির সফট লঞ্চ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম।

নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে নগরবাসী যেকোনো স্থান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট, ডিজিটাল রসিদ, নোটিশ ও নোটিফিকেশনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে। এতে নাগরিক সেবা গ্রহণের সময় কমার পাশাপাশি সরাসরি অফিসে এসে সেবা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘নাগরিকরা যাতে ঘরে বসেই ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের সেবা সহজে পান, সে লক্ষ্যেই গাজীপুর সিটি করপোরেশন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নাগরিক সেবাকেও অনলাইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর ফলে নাগরিকদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও নাগরিক উভয়েই উপকৃত হবেন।’ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সেবাব্যবস্থায় এ উদ্যোগ একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। রাজস্ব আয় বাড়াতে সঠিক হোল্ডিং ম্যাপিং, তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য নাগরিক সেবাকেও একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল অ্যাপ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

এক প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সেবার ফি: অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সনদ, পানির বিল, ইজারার অর্থ, মার্কেট ভাড়াসহ বিভিন্ন সেবার ফি ও বিল অনলাইনে প্রদান ও পরিশোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে তিনটি অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা হয়েছে।

এ কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এর আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন নাগরিক সেবার ফি ও বিল অনলাইনে সংগ্রহের জন্য এটুআইয়ের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’-কে সেবা অটোমেশন সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ফলে নগরবাসী মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, এজেন্ট ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে যেকোনো সময় ও স্থান থেকে ফি বা বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ‘একপে’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পানির বিল অনলাইনে সংগ্রহের কার্যক্রম পাইলটিং পর্যায়ে চালু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল বারেকসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কারিগরি দলের সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সফটওয়্যারটির কারিগরি দিক তুলে ধরেন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম আইটি সলিউশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। বক্তব্য দেন এটুআই প্রকল্পের চিফ অ্যাডভাইজার মাসুদুর রহমান, জিসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এবং কর নির্ধারণিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম পাঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights