চীনে ১৫০ বছরের রেকর্ড বৃষ্টি, ১০ লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

অনলাইন ডেস্ক

জাপান ও ফিলিপাইনে তাণ্ডব চালানোর পর এবার চীনের পূর্ব উপকূলে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ডলফিন। উপকূল অতিক্রম করে ঝড়টি যতই স্থলভাগের ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ততই ঘনিয়ে আসছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে টাইফুনটি দুর্বল হয়ে সাধারণ ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিয়েছে। তবে এতে দুর্যোগ শেষ হয়নি। সাংহাইয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যাপক বৃষ্টিপাত ইতোমধ্যে ১৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। ১৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েকদিন অবিরাম ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। যার প্রভাবে আরও বড় বিপর্যয় হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। উত্তর ও মধ্য চীনের বিস্তীর্ণ এলাকা শানডং, হেনান ও সাংহাইজুড়ে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ সময় জনগণকে বাড়ির ভেতরে বা নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কিছু জায়গায় ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে।

ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলীয় শহর ওয়েনঝৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ৯ লাখেরও বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রেখেছে। পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৯৮ হাজার ৯০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ সাংহাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরিত মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকতে হবে।

এর আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে আঘাত হানায় ছয়জন আহত হয়েছেন। এর প্রভাবে ৫০ হাজারেরও বেশি ভবনের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফিলিপাইনে টাইফুনটি দেশটির উত্তরে স্থলভাগে আঘাত না করলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। এতে ম্যানিলার আশপাশসহ উত্তর লুজনের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বাগিও শহরে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। সেখানে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে আরও শক্তিশালী টাইফুনসহ চরম আবহাওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়গুলোকে আরও শক্তিশালী করছে। যা এ ধরনের প্রলয়ংকরী দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights