ডিম আতঙ্কে ভুগছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা!
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ যেন নতুন এক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার বা আটক হওয়া তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা এখন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলটির অনেক নেতা-নেত্রী কার্যত ‘ডিম আতঙ্কে’ ভুগছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার গঠিত হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর গত ১৫ বছরে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা, কর্মী ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একের পর এক অভিযান শুরু হয়।
গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আদালত, থানা কিংবা তদন্ত সংস্থার দপ্তরে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে তাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ছে। কখনো কাঁচা, কখনো পচা ডিম নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। অনেক ক্ষেত্রে ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যাচ্ছে।
সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। একইভাবে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস, সাবেক বিধায়ক শওকত মোল্লা, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, সাবেক মেয়র সব্যসাচী দত্ত এবং কাউন্সিলর নৌশদ আলমও ডিমবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের ডিম নিক্ষেপ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও। অনেক সময় অভিযুক্তদের উদ্দেশে ছোড়া ডিম পুলিশ সদস্যদের গায়েও লাগছে। ফলে ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ডিম নিক্ষেপ এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বিজেপির দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন নতুন এক শব্দবন্ধ আলোচনায়—‘ডিম আতঙ্ক’। আর এই আতঙ্ক কবে কাটবে, তা সময়ই বলে দেবে।
