তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ খুন

প্রতিদিন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ঘোড়ায় লাথি মারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। নরসিংদীতে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সহকর্মীর ঘুষিতে চালকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মেহেরপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেসবুক নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১০টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভোলার মনপুরায় মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে ঘোড়ায় লাথি মারাকে কেন্দ্র করে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামের আশিক আলী এবং শের আলীর পক্ষের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে থলেরবন্দ গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২২) ও মৃত নইমুল্লার ছেলে আবদুল আউয়াল (৫৫) নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের শের আলীর গৃহপালিত ঘোড়া আশিক মিয়ার ছেলে ফরিদকে লাথি দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশিক আলী পক্ষের নূর মোহাম্মদ ও শের আলী পক্ষের আবদুল আউয়াল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে নূর মোহাম্মদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে পাঠালে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে অপর আহত আবদুল আউয়ালের মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোক্তাদির হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

নরসিংদী : নরসিংদীতে তুচ্ছ ঘটনার জেরে পিকআপ ভ্যানের চালকের ঘুষিতে মোতাহার হোসেন (৪০) নামে ট্রাকচালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে নিহতের লাশ নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্বজনরা। সোমবার রাতে আহত ট্রাকচালককে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চালকের সহকারী মাহমুদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত মোতাহার হোসেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউটাউন এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় ঢাকা যাচ্ছিল শিবপুরের ইটাখোলা থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ ভ্যান। গাড়ি দুটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাহেপ্রতাব এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রাকটি পেছন থেকে পিকআপ ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এ সময় পিকআপের চালক ও তার সহকারী নেমে এসে ট্রাকের চালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ট্রাকচালক মোতাহার হোসেনের গলায় সজোরে ঘুষি দিলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাতেই লাশ নিয়ে নরসিংদী মডেল থানায় এসে বিচার দাবি করেন স্বজনরা। মধ্যরাতে নিহতের স্ত্রী তানজিলা আক্তার থানায় গিয়ে পিকআপ ভ্যানের চালক শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম (৫০) ও তার সহকারী পার্শ্ববর্তী মুন্সেফেরচর এলাকার মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ ট্রাকের সহকারী (হেলপার) মাহমুদুলকে গ্রেফতার করেছে। তবে চালক সিরাজুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পিকআপ ভ্যানের চালক সিরাজুল ইসলাম পলাতক। তার সহকারী মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মেহেরপুর : মেহেপুরের রাধাকান্তপুরে ঈদগাহ কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- রাধাকান্তপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে শাহরিয়ার লিওন (৪০), একই গ্রামের আরিফ হোসেন (৩৯), পালু শেখের ছেলে মোছাব আলী (৪২) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন একই গ্রামের রেজাউল হকের দুই ছেলে আনারুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম এবং জামাতা ফারুক হোসেন। রাধাকান্তপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের অধিপত্য বিস্তার নিয়ে একটি গ্রুপ ঈদগাহ কমিটির মেয়াদ এক বছর থাকতেই নতুন কমিটি গঠন করে রঙের কাজ করছে। গ্রামের মানুষ এর প্রতিবাদ জানায়। সোমবার তারাবি নামাজ শেষে শাহরিয়ার লিওনসহ অন্যরা একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় ২৫-৩০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে লিওনের ওপর অতর্কিত হামলা করলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাতজন আহত হয়েছেন। মেহেরপুর সদর থানার ওসি কনি মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

কিশোরগঞ্জ : ফেসবুকে রিকোয়েক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার দিবাগত রাতে কমলপুর বাসস্ট্যান্ডে মানিক মিয়ার হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী আজিবর ও মধ্যপাড়ার রউফ মিয়ার ছেলে ওমর মিয়ার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুজনকে মিলিয়ে দেন দোকান মালিক মানিক মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর দই পক্ষ দা, বল্লম, লাঠি, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় কমলপুুর মধ্যপাড়ার কিছু লোক পূর্বপাড়ার অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর করে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভোলা : মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ জাল উচ্ছেদ করতে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে মৎস্য বিভাগের লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উপজেলা মেরিন ফিশারিজ অফিসারসহ সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত মেরিন ফিশারিজ অফিসার মাহমুদুল হাসানকে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকালে মনপুরা ইউনিয়নের তুলাতুলী মাছঘাট এলকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আযাদ জানান, নিষিদ্ধ চাই জাল উচ্ছেদের জন্য মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলার মৎস্য অফিসের দুটি টিম মেঘনা নদীতে অভিযানে যায়। এ সময় জেলেরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে উপজেলা মেরিন ফিশারিজ অফিসার মাহমুদুল হাসান এবং ফিল্ড সহকারী মনিরুল ইসলাম আহত হন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে আহত জেলেদের অভিযোগ, উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকজন নদীতে নেমে জেলেদের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মৎস্য অফিসের লোকজন জেলেদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জেলেরা মৎস্য অফিসের লোকজনকে ধাওয়া দেয়। নদীতে ধাওয়া খেয়ে তারা মনপুরা ইউনিয়নের তুলাতুলী মাছঘাটে আশ্রয় নেয়। সেখানে জেলেদের সঙ্গে মৎস্য অফিসের লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত জেলেরা হলেন- কারিম মাঝি, জসিম মাঝি, বাবুল মাঝি, ইউনুছ মাঝি এবং এক জেলের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন। এদের সবার বাড়ি উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights