‘তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে’
অনলাইন ডেস্ক
চলমান উত্তেজনার মুখে তেহরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার বিন মোহাম্মদ গারগাশ।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং আস্থা পুনরুদ্ধারের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ফরাসি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট আয়োজিত একটি জননীতি সম্মেলনে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কূটনৈতিক বলেন, প্রায় ২৮০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আস্থার কথা বলা অবাস্তব। সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের এক বিষয়ে আর আস্থা পুনর্নির্মাণ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
তিনি দাবি করেন, এ হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষত সারতে ‘কয়েক প্রজন্ম’ লেগে যেতে পারে। মোহাম্মদ গারগাশ বলেন, যুদ্ধের কারণে দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে ইরানের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন তেহরানকে একটি স্থায়ী কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, এই হামলাগুলো ইচ্ছাকৃত বলে মনে হচ্ছে এবং এটি আরব সম্পর্কের প্রতি ইরানের অবজ্ঞাকেই তুলে ধরেছে।
গারগাশের মতে, প্রায় ৯০ শতাংশ হামলা বেসামরিক এলাকা এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ইরানের করা দাবির বিপরীত। তিনি বলেন, এই হামলার মাত্রা ও প্রকৃতি আঞ্চলিক ধারণাগুলোকে এমনভাবে দৃঢ় করেছে যা পরিবর্তন করা কঠিন হবে।
গারগাশ আরও বলেন, ইরান একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্মুখীন, যার কারণ হিসেবে তিনি একটি খণ্ডিত ও দুর্বলভাবে সমন্বিত সরকারকে উল্লেখ করেন। তিনি আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজয় হিসেবে ব্যাখ্যা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এমন ব্যাখ্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের হামলার সময় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫৩৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২২৫৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। মন্ত্রণালয়টি বিভিন্ন দেশের ২২৪ জন আহত হওয়ার খবর জানায় এবং দুজন আমিরাতি ও একজন মরক্কোর বেসামরিক ঠিকাদারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে আরও বলা হয়, হামলায় বিভিন্ন দেশের ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ।
