নতুন আলুর বাজার ধস, কমেছে সবজির দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
বগুড়ার বাজারগুলোতে নতুন আগাম জাতের আলুর ব্যাপক সরবরাহ বেড়েছে। তবে তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। গত বছরের তুলনায় বাজারে আলুর দামে বড় ধস নামায় দিশেহারা কৃষক।
এদিকে নতুন আলুর পাশাপাশি শীতকালীন সবজির দামও কমেছে। বাজারে সব ধরণের সবজি এখন কম দামে মিলছে। এতে করে ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় সব ধরণের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। যার ফলে দাম একেবারেই কম।
জানা যায়, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। তবে শীতের এই আগাম ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নামায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর আগাম জাতের আলু প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে নতুন আগাম আলু পাইকারি বাজারে মানভেদে ৭২০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। যা প্রতি কেজিতে দাঁড়ায় মাত্র ১৮ থেকে ৩০ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০টাকা কেজি।
কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রতিটি কৃষি উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এক বিঘা জমিতে চাষাবাদ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বিক্রয়মূল্য কয়েক গুণ কমে গেছে। এই দামে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, খান্দার ও কলোনী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি নতুন আলু মানভেদে সর্বনিম্ন ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শীতকালীন বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়া কম দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ থেকে ৫০টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০টাকা, পটল ৬০টাকা, শসা ৬০টাকা, মুলা ২০টাকা, গাজর ৪০টাকা, সিম ৪০টাকা, টমেটো ৯০টাকা, করলা ৮০টাকা, পেঁপে ৩০টাকা, ফুলকপি ২০টাকা, বাঁধাকপি ৩০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি আদা ১৪০টাকা ও দেশি রসুন ১০০টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৪০থেকে ১৭০টাকা, দেশি মুরগি ৪০০ থেকে ৪৫০টাকা, গরুর মাংস ৭৫০টাকা, খাসির মাংস ৯০০ থেকে ১০০০হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশ মাছ আড়াই হাজার টাকা ও ছোট ইলিশ ৬০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী খোকন প্রামানিক জানান, বাজারে এখনও বিপুল পরিমাণ পুরনো আলু মজুত থাকায় নতুন আলুর প্রতি আগ্রহ কম। গত বছরের আলু সারা বছর কম দামে বিক্রি হয়েছে এবং অনেক পুরনো আলু এখনও বাজারে আছে। তাই নতুন আলুর দামে ধস নেমেছে। পাশাপাশি নতুন আলুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। এছাড়া শীতকালীন বিভিন্ন সবজির দাম আগের তুলনায় কম। বগুড়া শহরে বাজার করতে আসা শাজাহান আলী জানান, আগের তুলনায় বাজারে প্রচুর সবজির সববরাহ বেড়েছে। দামও কম।
