নদীর রাইখোর মাছ পুকুরে

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নদীর রাইখোর মাছ পুকুরে সফলভাবে চাষ করা সম্ভব। এটি প্রমাণ করেছেন নওগাঁ সদর উপজেলার চকআতিথা গ্রামের নাসির উদ্দিন। রাইখোর মাছ নদীতে প্রাকৃতিকভাবে হয়। কিন্তু জেলায় প্রথম সেই মাছ পুকুরে চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাসির উদ্দিন। এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় মাছের সংরক্ষণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন নওগাঁ সদরের চকআতিথা গ্রামের মৎস্য চাষি নাসির উদ্দিন। তিনি দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ ১০-১২ বছর ধরে পুকুরে চাষ করে থাকেন। গত দুই বছর আগে তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীতে ভর্তি হন। তাদের মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে মৌসুমীর বাস্তবায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে তিনি মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। রাইখোর একটি মূল্যবান দেশি মাছ। যা সাধারণত নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে পাওয়া যায়। রাইখোর মাছের সফল চাষাবাদ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবেপরিবেশগত পরিবর্তন, নদী-নালা ভরাট এবং অতিরিক্ত আহরণের কারণে এই মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে মাছটির সংরক্ষণ এবং চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মৌসুমী এর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে নাসির উদ্দিনের পুকুরে নদীর রাইখোর মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর মাছের সুষ্ঠু পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়। যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে মাছগুলো বড় হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন নাসির। শুধু তাই নয়, জেলায় সব মৎস্য চাষিকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাসির উদ্দিন। জেলার অন্য চাষিরা তার এই সাফল্য দেখে অবাক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নওগাঁ সদর উপজেলা চকআতিথা গ্রামের আখতারুজ্জামানের ছেলে নাসির উদ্দিনকে মৌসুমীর উদ্যোগে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি জাতের মাছ চাষে উদ্যোক্তা তৈরির প্রদর্শনীর জন্য ১২ কেজি রাইখোর মাছের পোনা প্রদান করা হয়। প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০টি করে মোট ২৪০০টি রাইখোর মাছের পোনা তাঁর পুকুরে অবমুক্ত করা হয়। মাত্র পাঁচ মাসের পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছগুলোর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে। বর্তমানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। যা চাষের সফলতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। নদীর রাইখোর মাছ পুকুরে চাষ করে নাসির উদ্দিন ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। বর্তমানে তাঁর পুকুরে উৎপাদিত রাইখোর মাছের ওজন দুই মণেরও বেশি। বর্তমান বাজারে রাইখোর মাছের মূল্য প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকা।

এ হিসাবে মাছ বিক্রির মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সব ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর প্রায় লাখ টাকা লাভ হবে। নাসির উদ্দিনের এই সফলতা দেশীয় মাছ চাষে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

মৌসুমী এনজিওর মৎস্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা, পুষ্টিমান সম্পন্ন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রাইখোর মাছের সফল চাষাবাদ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights