নেত্রকোনায় চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একজন গ্রেফতার
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে পালিয়ে থাকা হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আটকের পর সোমবার বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার ভোরে ময়মনসিংহ শহরের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার যুবক বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটি গ্রামের মো. আব্দুল মোতালিবের ছেলে।
নেত্রকোনায় সদরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ ইস্ট বেঙ্গলের একটি টহল দল তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে বলে দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন মেজর জিসানুল হায়দার।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতার ব্যক্তি গ্রেফতার এড়াতে গত ৩ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় সুকৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ গরুর বাজারে সিন্ডিকেট পরিচালনা, সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিপালন, সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, অবৈধ দখলদারিসহ নৈহাটি মাদ্রাসা এবং মসজিদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ তদন্তে দেখা যায়, আল-আমিন নৈহাটি গরুর হাটের অবৈধ সিন্ডিকেটের মূল হোতা।
হাটের বিভিন্ন রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে দেখা যায়, এই সিন্ডিকেট বিগত ১৫ বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন এবং তার ঘনিষ্ঠদের সাথে যোগসাজশে সেই অর্থ লোপাট করেছে। মসজিদ-মাদ্রাসার নামে হাট পরিচালনা করলেও কমিটিকে জিম্মি করে হাটের টাকা মসজিদের তহবিলে জমা না দিয়ে নিজে ও সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা নগদ টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছে। তাদের এই কার্যক্রম বাধাহীন করতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে।
এসব কারণে গত ১৫ বছরে স্থানীয় জনগণ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। এ ছাড়াও তার নামে বারহাট্টা থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী কর্তৃক অভিযানে গ্রেফতার আল-আমিনকে বারহাট্টা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার ব্যক্তির সুষ্ঠু বিচারের জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং সমন্বয় করা হচ্ছে।
