পার্থিব জীবনে মানুষের কর্মের প্রভাব

মাইমুনা আক্তার

মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। শরীরিক সুস্থতা-অসুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি-অশান্তি থেকে শুরু করে জীবনের সফলতা-বর্থ্যতা সব কিছুতেই মানুষের কাজকর্মেরও কিছু প্রভাব দেখা যায়।

সংযম ও শোকর মানুষের জীবনের বোঝা হালকা করে, মানসিকভাবে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে আর অসংযম ও নাফরমানির জীবন মানুষকে বিপদগ্রস্ত করে, জীবনের বোঝা ভারী করে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার বড় হাতিয়ার হলো আল্লাহভীতি।

আল্লাহভীরু মানুষের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি যেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের জন্য আসমান ও জমিনের কল্যাণগুলো উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং আমি তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের পাকড়াও করেছি।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একটি নেকির ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোনো মুমিন বান্দার প্রতি অত্যাচার করবেন না, বরং তিনি এর ফলাফল দুনিয়ায় দান করবেন এবং আখিরাতেও দান করবেন।

আর কাফির লোক পার্থিবজগতে আল্লাহর উদ্দেশে যে সৎ আমল করে এর প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাকে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিশেষে আখিরাতে প্রতিফল দেওয়ার মতো তার কাছে কোনো সৎ আমলই থাকবে না। (মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮২)

এই হাদিস দ্বারাও স্পষ্ট হয়ে যায়, মানুষের কৃতকর্মের প্রভাব তার পার্থিব জীবনেও পড়ে। তাই দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য নিজেদের আমল ঠিক করা ও গুনাহ ত্যাগ করার কোনো বিকল্প নেই।

কেননা পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের যে বিপদ দেখা দেয়, তা তোমাদের নিজ হাতের কৃতকর্মেরই কারণে দেখা দেয়। আর তিনি তোমাদের অনেক কিছুই (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।

(সুরা : শুরা, আয়াত : ৩০)

তাই আমাদের উচিত, সব ধরনের গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং গুনাহ ত্যাগ করা। যেসব কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, সেসব কাজে আত্মনিয়োগ করা। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights