পাহাড়ি ঢলের পানিতে আখাউড়ার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে মোগড়া, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩২টি পরিবার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন জাজিরপুল খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, কেন্দুয়াই, রহিমপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ আশপাশের গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বহু পরিবার।

আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে থাকা আমদানি-রফতানিকারকদের কয়েকটি কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। সংলগ্ন হোটেল ও চায়ের দোকানেও পানি প্রবেশ করায় ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আবু হানিফ বলেন, ভারত থেকে আসা পানিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পুকুর ও জমি তলিয়ে গেছে। আমাদের এলাকায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। হঠাৎ উজান থেকে পানি নেমে এসেছে।

কেন্দুয়াই গ্রামের মনির মিয়া বলেন, ‘চার কানি জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ভারত থেকে হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর ও জমি তলিয়ে গেছে।’

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, ‘গত শনিবার থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল পানি অনেক বেড়েছে। আমাদের জমিজমা পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে মাত্র ধান লাগিয়েছিলাম। শ্রমিকের টাকাও এখনো পুরোপুরি দেওয়া হয়নি।’

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহের মিয়া বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের রহিমপুর, কেন্দুয়াই ও বঙ্গেরচর গ্রামের বহু বাড়িঘর ও জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জাজি নদীসহ খালগুলো পরিষ্কার করা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।’

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়নের এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ৩২টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। সীমান্তবর্তী স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখনো কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। ত্রাণসামগ্রীও মজুত রাখা হয়েছে; প্রয়োজন হলে তা বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights