পেরুতে জোড়া ভূমিকম্পে নিহত পাঁচ

অনলাইন ডেস্ক
পেরুর রাজধানী লিমার পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চল জুনিনে পরপর দুটি ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পেরুর জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ৫.১ ও ৩.৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন—এ আশঙ্কায় উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি বলেন, “জুনিনে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের পরিণতিতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।”

পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকেজ জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৪৮টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং আরও ১৮টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, যাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় রেডিও স্টেশন এক্সিটোসা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবরে, দেশটির সিভিল ডিফেন্স প্রধানের বরাতে মৃতের সংখ্যা ছয়জন বলা হয়েছে।

লিমা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের চুপাকা শহরসহ আশপাশের এলাকায় অধিকাংশ ঘর কাঁচা মাটির ইট বা অ্যাডোব দিয়ে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো সহজেই ধসে পড়ে। এন টেলিভিশনকে চোঙ্গোস বাজোর এক বাসিন্দা বলেন, “ভূমিকম্পে আমাদের ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে অনেক অ্যাডোব ঘর ভেঙে পড়েছে।”

উল্লেখ্য, পেরু ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভূমিকম্প ঘটে। জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২৪ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টির ১৮ কিলোমিটার। তবে ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৬ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল। সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights