বগুড়ায় আমন ক্ষেতে সবুজের সমারোহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় আমন ধানের ক্ষেতে সবুজের সমারোহ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজ ধান ক্ষেত। আমন ধানকে ঘিরে সোনালী স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে আমন ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। কৃষকরা এখন নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়া কৃষি বিভাগ বলছে, ফসলের মাঠে কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, সময়মতো সার, কীটনাশক প্রয়োগের কারণে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। যা থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিকটন। গত বছর জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৩৪ মেট্রিকটন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
জানা যায়, শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের মধ্যে কৃষকরা আমনের চারা রোপন করে থাকেন। অধিক বৃষ্টির কারণে আমন ধানের চারা রোপণের এটাই সবচেয়ে মোক্ষম সময়। কিন্তু এবার শ্রাবণের শুরুতে অঝোরে ঝরেনি বৃষ্টিধারা। কয়েক দিন বৃষ্টি না থাকায় মাঠঘাট যেমন শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছিল তেমনি মলিন ছিল কৃষকের মুখের হাসি। আমনের এই নিশ্চিত ফসল পেতে প্রকৃতিই যেন ভরসা। জেলার অনেক কৃষকরা বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অবশেষে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহালেও যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বগুড়ার কৃষক। এখন নিবিড় পরিচর্যা ও সময়মতো সার প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সোনালি ধান ফলানোর জন্য মাঠে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কৃষক। তাঁদের নিবিড় পরিচর্যায় আশানুরূপভাবে বেড়ে উঠেছে আমন ধান।
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, কাহালু, গাবতলী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমন ধানের আবাদ হয়ে থাকে। কৃষি অফিস বলছে, এ বছর আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধানের উৎপাদনও অনেক ভাল হবে।
শাজাহানপুর উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। শুরুতেই বৃষ্টি না থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতে এখন পানি রয়েছে। ধানের চারাগুলো বড় হচ্ছে। আকাশের বৃষ্টি আমন ধানের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। এখন জমিতে সার কীটনাশক প্রয়োগসহ সঠিক পরিচর্যা করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে এবার বাম্পার ফলনের আশাবাদী তিনি।
এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাকৃতিক বৈরিতার কবলে না পড়লে এবং ঠিকমতো সোনালী ধান ঘরে তুলতে পারলে লাভবান হবেন বগুড়ার কৃষক। তাইতো নতুন ধানে সোনালী স্বপ্ন বুনছেন জেলার কৃষকরা। গেলো বছর ধান ও চালের দাম চড়া হওয়ায় অন্য চাষ ছেড়ে আমন চাষে ঝুকেছেন তারা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। যা থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন ধানের চাষ নিয়ে জেলার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শ্রাবণে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকদের আশা যুগিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
