বগুড়ায় কমেনি পেঁয়াজের ঝাঁজ, স্বস্তি নেই সবজির দামে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ার বাজারগুলোতে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। এর মধ্যে কোনো কোনো সবজি আগের তুলনায় বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। শুধু সবজিই নয়, পেঁয়াজের ঝাঁজও কমেনি। বাজারে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজিতে আর পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজিতে। এতে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোলি, খান্দার ও বকশি বাজারসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা গেছে, শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও দাম কমছে না। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। যার ফলে সবজির দাম চড়া। কৃষক কিছুটা সহনশীল দামে তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই সবজি কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে তা দ্বিগুণ দামে তুলে দিচ্ছেন। এ কারণেও সবজির দাম বাড়ছে। বাজারে প্রায় সব সবজিই ৬০ থেকে ৮০ টাকার কমে মিলছে না। এতে করে বিপাবে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। মূলা ও পেঁপে কিছুটা কম দামে মিললেও অন্য সবজির দাম বেশ চড়া। বাজারে শীতকালীন ফুলকপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা, কাঁচা মরিচ, নতুন আলু সবই ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বেগুন ৬০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ও করলা ৮০ থাকে ৯০ টাকা, পুরোনো আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিকে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে গত মৌসুমে উৎপাদিত প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন আসা মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। কোথাও কোথাও ১০০ টাকাতেও বিক্রি করা হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৬২ থেকে ৬৩ টাকা, স্বর্ণা ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা যায়। ডিমের হালি ৪৬ টাকা, দেশি মুরগির কেজি ৫২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ২৭০ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা যায়।
এ ছাড়া গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ এবং খাসির মাংসের কেজি ১০৫০ থেকে ১১শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিন আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের সিলভার কার্প মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, তিন কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৫০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা, টেংরা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
রাজাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলামিন হোসেন জানান, সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি নেই। আমাদেরকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বাজার করতে আসা শহরের কলোনি এলাকার আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, ৬০ থেকে ৮০ টাকার কমে সবজি মিলছে না। প্রায় এক থেকে দুই মাস যাবৎ বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সবজির দাম এমন চড়া হওয়ায় দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
