বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, পাঁচ দিনজুড়ে বৃষ্টি; আট জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে শুক্রবার রাতের মধ্যে আট জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু এলাকায় প্রশমিত হতে পারে।

রবিবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বোচ্চ ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৩৫ মিলিমিটার, ফেনীতে ২৬ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২১ মিলিমিটার, নেত্রকোণায় ১৬ মিলিমিটার এবং রাঙামাটিতে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights