বন্ধু থেকে শত্রু, তুরস্ক-ইসরায়েল উত্তেজনা তুঙ্গে

অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন আর কেবল মৌখিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে দুই দেশ এক গভীর আঞ্চলিক ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে।

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ দুটি এখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে হর্ন অব আফ্রিকা পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সরাসরি একে অপরের মুখোমুখি। আঙ্কারা ও তেল আবিবের এই বৈরি সম্পর্ক এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয় বরং গাজা, সিরিয়া এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন কৌশলের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইসরায়েল যখন হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তখন হামাসকে একটি মুক্তিদ্ধকামী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করছেন। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় তুরস্ক হামাসের রাজনৈতিক উইংয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়, যা ইসরায়েলের জন্য একটি স্পষ্ট রেড লাইন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তুরস্ক আঙ্কারায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র একটি লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ইসরায়েল আগেই সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করেছিল।

সিরিয়ার রণক্ষেত্রেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত প্রবল। ২০২৪ সালের শেষে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তুরস্ক একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল মুসলিম সরকার দেখতে চায়। যে সরকার কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ ঠেকাবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল চায় একটি দুর্বল ও বিকেন্দ্রীভূত সিরিয়া, যেন সেখান থেকে ইরানের প্রভাব চিরতরে মুছে ফেলা যায়। বর্তমানে দুই দেশই সিরিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা বা প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে, লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইসরায়েল কর্তৃক সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে তুরস্ক। যেহেতু মোগাদিশুতে তুরস্কের বিশাল সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি অনুসন্ধানের স্বার্থ রয়েছে। তাই ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে আঙ্কারা চরম ক্ষুব্ধ। এছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা তুরস্কের জন্য একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েল ও তুরস্কের এই ক্ষমতার লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights