বাইডেনের গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ অবসানের উদ্যোগ হিসেবে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে। শনি ও রবিবার সেই প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের সঙ্গে আলোচনা করেছে মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও মার্কিন প্রতিনিধিরা।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আপতচোখে বাইডেন যে প্রস্তাবটি দিয়েছেন, তা ইসরায়েল অনুসারী। ফলে ইসরায়েলের প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। যদিও ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রস্তাবটির কয়েকটি শর্ত নিয়ে তাদের আপত্তি আছে। কিন্তু হোয়াইট হাউস মনে করছে, হামাস এই শর্ত মেনে নিলে ইসরায়েলও তাতে সম্মত হবে।
এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গত নভেম্বর মাসে সাময়িক সংঘর্ষ-বিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল ইসরায়েল এবং হামাস। সে সময় বেশ কিছু বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস, পরিবর্তে ইসরায়েল মুক্তি দিয়েছিল বেশ কিছু আটক ফিলিস্তিনিকে। এরপর বারবার সংঘর্ষ-বিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও তা সার্থক হয়নি। এবারের প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী।

নতুন প্রস্তাবে তিনটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের সেনা গাজার সমস্ত জনবহুল অঞ্চল থেকে সরে যাবে। ওই সময়ের মধ্যেই হামাস ৭ অক্টোবরের হামলায় আটক করা আরও কিছু বন্দিকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি ইসরায়েলকেও আরও কিছু ফিলিস্তিনি জেলবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে সমস্ত ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। বিনিময়ে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেবে।

তৃতীয় ধাপে গাজায় নতুন করে ভেঙে পরা ঘর-বাড়ির পুনর্গঠন শুরু হবে। মানুষের কাছে আরও বেশি করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

বাইডেন বলেছেন, এই প্রস্তাবে সমস্তরকম আলোচনার রাস্তা খোলা আছে। দুইপক্ষ সমস্ত শর্ত মেনে নিলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলেই বাইডেন মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, হামাস এই শর্ত মেনে নিলে ইসরায়েলও সম্মতি জানাবে।

বিষয়টি নিয়ে সপ্তাহান্তে দুইপক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়েছে মধ্যস্থতাকারীরা। ইসরায়েলের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবে যে শর্তগুলো আছে, তার অনেক কিছুই ইসরায়েলের পছন্দ নয়। কিন্তু তারপরও ইসরায়েল এই প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত কারণ, তারা দ্রুত বন্দিদের মুক্তি চায়। সূত্র: রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডয়েচে ভেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights