বাউফলে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেফতার ৫
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বন্দরের মুদি মনোহরী ব্যবসায়ী শিবানন্দ রায় বনিক (৭৬) অপহরণের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড ছিল মো. মাসুদ শরীফ। মাসুদ একটি কোম্পানির বাউফল উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি ও ঝালকাঠীর বালিগোনা গ্রামের মো. আকবর শরীফের ছেলে। শিবানন্দ রায় বনিক ওই একই কোম্পানির পরিবেশক হওয়ায় তার লেনদেন সম্পর্কে জানত মাসুদ।
অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের পর সোমবার দুপুরে বিস্তারিত তুলে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ। এ সময় তিনি বলেন, ডাকাতদল কোটি পতি হওয়ায় আশায় ডাকাতি করেছে। ডাকাতির সঙ্গে মোট ৯ জন জড়িত। এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ৪ জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মাহমুদ শাকুর, বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন।
এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় মাসুদ শরীফ (২৪) মো. মিরাজ মৃধা (২০) পিতা-মো. মিন্টু, মো. জহির প্যাদা (২৭) পিতা-বাবুল প্যাদা, বিধান মিস্ত্রী (২২) পিতা-গকুল চন্দ্র মিস্ত্রি। এদের বাড়ি নাজিরপুর তাতেরকাঠী ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে। মো. মাহফুজ (১৬) ভোলার দক্ষিণ আইচার চর কচুয়ার জাকির সিকদারের ছেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতির ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৮০ টাকা, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি রামদা, ৬টি মোবাইল, জুতা কেডস দুই জোড়া।
শিবানন্দ রায় বনিকের বোনের মেয়ে অ্যডভোকেট অনুরাধা রায় বনিক বলেন, শনিবার দুপুরে তার মামার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। সেখানে তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করলে অপহরণকারীদের সঙ্গে দেনদরবার চলে। একপর্যায়ে রবিবার বিকাশের মাধ্যমে ৫টি নম্বরে ৯৬ হাজার টাকা নেয় অপহরণকারীরা। বাকি টাকা পড়ে দিবে এই চুক্তিতে তারা বড় ডালিমার কচুয়ার একটি পরিত্যাক্ত স্থানে রেখে যায়।
এদিকে বিষয়টি শিবানন্দ রায়ের পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনকে জানালে তারা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থান সনাক্ত করেন এবং কৌশলে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়। প্রায় ৫২ ঘণ্টা পর রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমার কচুয়া গ্রামে ডিবি ও পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
প্রশাসন ব্যবসায়ী শিবানন্দ রায় বনিককে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। বাউফল থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে শিবানন্দ রায় বনিককে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি শারীরিক ভাবে সুস্থ আছেন।
শিবানন্দ রায় বনিক ওই বন্দরের একজন বড় ব্যবসায়ী। তিনি চাল, ডাল, আটাসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা। গত শুক্রবার দোকানের সারা দিনের বিকিকিনির হিসাব বুঝে নিয়ে দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী দল দোকানে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিবানন্দ রায় বনিকসহ দোকান কর্মচারী শংকর (৩৪) ও তাপস (৩৫) নামে দুই জনকে বেঁধে ফেলে। পরে তারা দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে শিবানন্দকে বেঁধে দ্রুতগামী ট্রলারে উঠিয়ে অপহরণ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই বন্দরের পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জড়ো হয়ে শিবাননন্দ বনিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
এর প্রতিবাদের বন্দরের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
