বাজেট অনুপাতে বাড়ছে না রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
রাশেদ হোসাইন
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের লাভ, সুদ, প্রশাসনিক ফি বা সেবামূলক খাত থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাজেট অনুপাতে বাড়ছে না। করের আওতায় পড়ে না এমন সব সরকারি আয়ই হলো করবহির্ভূত রাজস্ব। আগামী বাজেটে টাকার অঙ্কে করবহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হলেও, মোট রাজস্বের অংশ ও জিডিপির অনুপাত বিবেচনায় তা বাড়েনি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এনটিআর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অথাৎ আকার বাড়ছে ১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু মোট রাজস্ব প্রাপ্তির হিস্সা ও জিডিপির অনুপাত এ হার কমছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে করবহির্ভূত রাজস্বের (এনটিআর) অংশ বা হিস্সা ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই হিস্সা উল্টো কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে। একইভাবে জিডিপির অনুপাত বিবেচনা করলেও এনটিআর-এর লক্ষ্যমাত্রায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনটিআর আদায়ের লক্ষ্য ছিল জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির অনুপাতে এই লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে, সরকার কর রাজস্বের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়াচ্ছে। আগামী অর্থবছরের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ)। এর মধ্যে বড় অংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর থেকে, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ (পূর্বে ছিল ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ)। অথচ এনবিআরকে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ঘাটতি থাকে।
