বেলারুশের বিরোধী নেতার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক
বেলারুশের বিরোধী নেতা সভিয়াতলানা তিখানৌস্কায়াকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দেশটির একটি আদালত সোমবার এই কারাদণ্ড দেন।
বেলারুশিয়ান এই বিরোধী নেতা বর্তমানে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করে। বেলারুশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানোর জন্যই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সভিয়াতলানা তিখানৌস্কায়া।
৪০ বছর বয়সী তিখানৌস্কায়া ইংরেজির সাবেক একজন শিক্ষক। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর তিনি প্রতিবেশী লিথুয়ানিয়ায় পালিয়ে যান। ওই নির্বাচনে লুকাশেঙ্কো কারচুপি করে বিজয়ী হয়েছিলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র লুকাশেঙ্কো বিক্ষোভকারীদের সেসময় ওপর নৃশংস দমনপীড়ন চালান, একইসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। সেসময় বেলারুশের প্রধান বিরোধী ব্যক্তিত্ব ও কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো প্রায় ৩০ বছর ধরে বেলারুশ শাসন করেছেন। গণবিক্ষোভের সময় তার সরকার ৩৫ হাজারেরও বেশি লোককে আটক করে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর এই রায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সভিয়াতলানা তিখানৌস্কায়া। টুইটারে এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘১৫ বছরের কারাদণ্ড। বেলারুশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানোয় এভাবেই সরকার আমার কাজকে ‘পুরস্কৃত’ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আজ আমি আমার নিজের সাজা নিয়ে ভাবছি না। আমি হাজার হাজার নিরপরাধের কথা ভাবছি, যারা আটক রয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’
