বৈদ্যুতিক চুল্লি বসলেও পোড়েনি দেহ

জিন্নাতুন নূর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর শ্মশানঘাটটি ব্রিটিশ আমলের। ১৯৭২ সালের পর থেকে এর উন্নয়ন শুরু হয়। ২০২৩ সালে ভারত থেকে বৈদ্যুতিক চুল্লি এনে স্থাপন করলেও আজ পর্যন্ত সেটি চালু করতে পারেনি ডিএসসিসি। ফলে শ্মশানে চুল্লি বসলেও পোড়েনি কোনো লাশ। পাশেই তৈরি করা হয় পুকুর। সিঁড়ি ও ঘাট না থাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দাহ কাজের সময় স্নান ও পি দান করতে পারছেন না। এতে দাহ প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে শ্মশান কমিটি অভিযোগ করেছেন।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর শ্মশানে শিগগিরই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করা হবে। বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও মশক নিধনেই ডিএসসিসির বাজেটের বড় অংশ খরচ হয়ে যায়। গত অর্থবছরে রাজস্ব আয় কম হওয়ায় এবার বাজেট সংকুচিত করতে হয়েছে। এর প্রভাব অন্য সব সেবাতেই পড়েছে। তিনি বলেন, এ অর্থবছরে যে কাজগুলো শেষ করা যায়নি, তা আগামী অর্থবছরে করে ফেলব বলে আশা করছি। সরেজমিন শ্মশানঘাটে গিয়ে জানা যায়, বৈদ্যুতিক চুল্লিতে লাশ পোড়ালে দ্রুত হয়। পরিবেশবান্ধবও। চুল্লিটি ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক চুল্লিটি চালানোর জন্য জেনারেটরও কেনা হয়েছে। সব মিলে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি টাকা। লালবাগ-কামরাঙ্গীরচরের শ্মশানঘাট কমিটির সেক্রেটারি সুঘন ঘোষ বলেন, বৈদ্যুতিক চুল্লি ও পুকুরঘাট তৈরির জন্য যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারা অর্থ সংকটের কথা বলে শেষ করেনি। শ্মশানঘাটটি এখন অরক্ষিত। শিশুদের সমাধি থেকে যে কেউ লাশ চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। পুকুরে সিঁড়ি না থাকায় দাহ করার কাজ ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। যে কোনো সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সিটি করপোরেশনকে বারবার চিঠি দিলেও কাজ হয়নি। চুল্লিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। ডোম রাজ কাপুর বলেন, এই শ্মশানে মাসে গড়ে ২৫টির মতো লাশ দাহ করা হয়। শিশুদের লাশ সমাধিতে রাখা হয়। বড়দের কেউ দাহ করতে না চাইলে তাদের অনুরোধে এবং কেউ কেউ বংশগতভাবেই শ্মশানের সমাধিতে লাশ রাখেন। সমাধিতে ৭০টির মতো লাশ দাফনের জায়গা আছে। স্থান সংকটের কারণে ১০ মাস থেকে এক বছর পর সমাধিতে নতুন লাশ রাখা হয়। সিটি করপোরেশনের ফিসহ কাঠ দিয়ে একটি লাশ দাহ করতে সাত হাজার টাকা খরচ হয়। এই শ্মশানে ভিতরে এবং বাইরে দুই জায়গায় লাশ পোড়ানো হয়। একটি লাশ পোড়াতে গড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। মৃত ব্যক্তির সন্তানদের শ্মশানের পাশের পুকুরে নেমে স্নান ও পি দানের কথা। কিন্তু পুকুরে নামার সিঁড়ি বা ঘাট নেই। নেই বাউন্ডারি। ব্যবহার না হওয়ায় পুকুরটিও বেশ অপরিষ্কার। এতে করে ধর্মীয় নীতিগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। শ্মশানে মৃতব্যক্তির সঙ্গে আসা মানুষদের বসা ও দাঁড়ানোর জন্য আলাদা জায়গা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights