ভারতের প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে একের পর এক শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার প্রত্যন্ত বনাঞ্চলের গ্রামগুলোতে চলতি বছরের মে মাস থেকে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানত হাম ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে অপুষ্টি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়গুলোও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

মৃত শিশুদের বয়স ছিল মাত্র তিন-চার মাস থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। নিহতদের অধিকাংশই বাইগা জনগোষ্ঠীর সদস্য। ভারতে স্বীকৃত ৭৫টি ‘বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী জনগোষ্ঠী’র একটি হলো বাইগা।

চিকিৎসার বদলে ওঝার শরণাপন্ন পরিবার
মাতলা গ্রামের তিন বছর বয়সী বামিতা মার্কামের মৃত্যুর ঘটনাটি এই সংকটের একটি উদাহরণ। মে মাসের এক ভোররাতে প্রচণ্ড খিঁচুনি শুরু হয় তার। এর আগে কয়েক দিন ধরে উচ্চ জ্বর ও শরীরে লাল ঘায়ের মতো ফুসকুড়ি ছিল।

বামিতার মা কৌশিলা প্রথমে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক একটি মলম দেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এরপর বাড়িতে ডেকে আনা হয় স্থানীয় এক ধর্মীয় চিকিৎসক বা ওঝাকে। তিনি সিরাপ ও ট্যাবলেট দেন। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

রাতভর খিঁচুনির পর ভোরে মারা যায় বামিতা। পরিবারের সদস্যরা তাকে পানি পান করানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে সে রক্ত বমি করে। দুপুরের পর জঙ্গলের মধ্যে তাকে দাফন করা হয়।

কৌশিলার ভাষায়, “আমি যদি তাকে হাসপাতালে নিতে পারতাম, হয়তো সে বেঁচে যেত।”

প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে হাসপাতালে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বালাঘাটের এসব গ্রাম একসময় মাওবাদী বিদ্রোহের বিস্তারের জন্যও পরিচিত ছিল। এখন সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোই অনেক পরিবারের জন্য বড় বাধা।

বর্ষায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। লাল মাটির ওপর সরু কাঁচা রাস্তা, ধানখেত ও নিচু পাহাড়ি বন পেরিয়ে যেতে হয়। ভারী বৃষ্টিতে এসব রাস্তা কাদায় পরিণত হয় এবং অনেক সময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোনও কোনও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য চিকিৎসকদের ট্রাক্টরে করে যেতে হয়েছে। প্রত্যন্ত কয়েকটি বাড়িতে পৌঁছাতে প্রতিবেদকদের প্রায় দুই কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হয়েছে। আশপাশের জঙ্গলে দেখা গেছে মারা যাওয়া শিশুদের কবরও।

নিকটতম সরকারি হাসপাতালটি ১০০ শয্যার এবং বিরসা এলাকায় অবস্থিত, যা কিছু গ্রামের কাছ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। নিজস্ব যানবাহন না থাকলে হাসপাতালে যেতে হয় কাদামাখা রাস্তা, বাঁশের তৈরি অস্থায়ী খাটিয়া কিংবা মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করে। এতে এক দিনের কাজও হারাতে হয় দরিদ্র পরিবারগুলোর।

মাতলায় বামিতা গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সময়ও প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। কাদায় পিচ্ছিল হয়ে থাকা রাস্তায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনও যানবাহন ছিল না পরিবারের।

কুসংস্কারে চিকিৎসা বিলম্বিত
চিকিৎসা পাওয়ার পথে অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাধার পাশাপাশি স্থানীয় কিছু বিশ্বাসও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বাইগা জনগোষ্ঠীর কিছু পরিবার হাম বা জলবসন্তের মতো রোগকে ‘মাতা’ বা রোগের দেবীর আগমন হিসেবে দেখে। তাদের বিশ্বাস, দেবীকে সন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত রোগীকে চিকিৎসা করানো উচিত নয়। এ সময় সাত থেকে নয় দিন ধরে গোসল করানো, ঠান্ডা পানি ও নিমপাতা উৎসর্গসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। অনেকের ধারণা, এই আচার শেষ হওয়ার আগে চিকিৎসা করালে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

বামিতার ছয় বছর বয়সী বোন অঙ্কিতা বারবার জানতে চায়, তার বোনের কী হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছে, “মাতা এসেছিল।”

২১ জুলাই স্থানীয় পঞ্চায়েতপ্রধান পরশুরাম ধুরভে জানতে পারেন, বোন্ডারি গ্রামের একই পরিবারের দুই শিশু মারা গেছে। পরদিন আরেকটি মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের জানান এবং ঘটনাস্থলে যান।

সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কোনও না কোনও শিশু অসুস্থ। তাদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি এবং অপুষ্টির লক্ষণ ছিল।

সরকারি চিকিৎসা কর্মকর্তা নিমিশ গৌতম সেখানে গিয়ে গুরুতর পানিশূন্যতায় ভোগা শিশুদের দেখতে পান। এক কিশোরীর কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ফুসকুড়ি ছিল এবং তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। কিন্তু পরিবার তাকে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পরীক্ষা করাতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পুলিশের সহায়তায় পরিবারটিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। পরিবারটি বলে, হাসপাতালে নিলে মেয়েটি মারা যাবে। শেষ পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সে সুস্থ হয়ে ওঠে।

কোনও কোনও গ্রামে কর্মকর্তারা জোর করে বাড়িতে ঢুকে গুরুতর অসুস্থ পাঁচ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।

একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু
বোন্ডারির সাগ্নিবাই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়েছেন। তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে লামনিন ২৬ জুন মারা যায়। পরদিন মারা যায় তার এক বছর বয়সী ছেলে সাহিল।

স্থানীয় এক ওঝা পরিবারকে বলেছিলেন, এটি ‘মাতা’র প্রভাব। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার মতো অর্থ বা যানবাহনও ছিল না তাদের।

সাগ্নিবাইয়ের স্বামী সামারু ধুরভে বলেন, রাতগুলোতে শিশুদের শরীর ‘আগুনের মতো জ্বলত’। তারা খাবার হজম করতে পারত না। শেষ পর্যন্ত বাড়িতেই তাদের মৃত্যু হয়।

মাতলা গ্রামের মাহাসিংহ পার্তেও দুই সন্তান- ছয় বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলেকে- মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে হারিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ওঝার পরামর্শ মেনে তারা শিশুদের হাসপাতালে নেননি।

পার্তে ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক। ভালো দিনে প্রায় ২০০ রুপি আয় করেন। বর্ষাকালে কাজও কমে যায়। অথচ তার বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও তিনি কখনও সেখানে যাননি।

হাম-ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি অপুষ্টিও বড় ঝুঁকি
কর্মকর্তারা বলছেন, আট থেকে ১০টি মৃত্যু হামের সঙ্গে এবং প্রায় আরও ১০টি ম্যালেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কয়েকজন শিশু একই সময়ে একাধিক সংক্রমণে আক্রান্ত ছিল। তবে সব মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

৭ আগস্ট আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ট্রাইবাল হেলথ রিসার্চ (এনআইআরটিএইচ) আক্রান্ত গ্রামগুলো থেকে সংগ্রহ করা ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ছয়টিতে হামের সংক্রমণ পাওয়া যায় এবং চারটি ছিল নেগেটিভ।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এতে উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল ও পানি পড়ার পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে উঠলেও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়, ফলে অন্যান্য সংক্রমণও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এর সঙ্গে ম্যালেরিয়া যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রতিটি জ্বর ও ফুসকুড়িই হাম নয় এবং ম্যালেরিয়াও সব সময় হামের পর আসে না। বরং একাধিক সংক্রমণ, অপুষ্টি ও চিকিৎসা না পাওয়ার মতো কয়েকটি সমস্যা একই সঙ্গে কাজ করেছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তা নিমিশ গৌতম বলেন, “অনেক সময় মৃত্যুর পেছনে একক কোনও কারণ থাকে না। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে, আবার বাড়িতে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিচ্ছন্নতারও প্রায় কোনও চর্চা নেই।”

অপুষ্টি, বাল্যবিয়ে ও খাদ্যসংকট
বাইগা গ্রামগুলো পুরোপুরি আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে নয়। মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে অনেক পরিবার মরিচ তোলাসহ বিভিন্ন কাজে অন্য রাজ্যে যায়। শিশুদের হাতে স্মার্টফোনও দেখা যায়। অনেক পরিবার সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে অন্তত একটি বাতি জ্বালাতে পারে, ব্যাংক হিসাব রয়েছে এবং কোনও কোনও বাড়িতে পাইপের পানিও পৌঁছেছে।

তারপরও শিশুদের অপুষ্টি ব্যাপক। সম্প্রতি হামে মারা যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর ওজন ছিল মাত্র প্রায় পাঁচ কেজি।

গৌতমের মতে, বাল্যবিয়ে ও অল্প বয়সে মাতৃত্বও অপুষ্টির একটি কারণ। অনেক কিশোরী ১৬ বা ১৭ বছর বয়সেই মা হয়ে যায়। এতে ঘন ঘন গর্ভধারণ, অপরিণত অবস্থায় সন্তান জন্ম এবং কম ওজনের শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ে। অল্পবয়সী মায়েদের নিজেদের শরীরের বিকাশ চলতে থাকায় সন্তানকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানো ও পরিচর্যাও কঠিন হয়ে পড়ে।

খাদ্যাভ্যাসও বড় সমস্যা। অনেক পরিবার প্রধানত ভাত ও ডালের ওপর নির্ভরশীল; খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও বৈচিত্র্য নেই। বাইগা পরিবারগুলোর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় ব্যাপক পুষ্টিঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।

ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) ২০২৪ সালের এক নিরীক্ষায় মধ্যপ্রদেশে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নির্ধারিত বাড়িতে নেওয়ার পুষ্টিকর খাবার বিতরণ ব্যবস্থায় ‘গুরুতর অনিয়মের’ কথা বলা হয়। উপকারভোগী শনাক্তকরণ, খাবার উৎপাদন, পরিবহন ও বিতরণ- বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যা পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি টিকাদান ও চিকিৎসা
পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের পরীক্ষা শুরু করেন। ২০টির বেশি গ্রামে মোবাইল মেডিকেল ইউনিট পাঠানো হয়। এসব ইউনিটে অক্সিজেন, নেবুলাইজার, সাকশন সরঞ্জাম, ম্যালেরিয়া পরীক্ষার কিট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিল।

চিকিৎসক নীরজ শর্মা জানান, দলগুলো প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি রোগী দেখেছে, যাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। প্রতিদিন ১০টির বেশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কোনও কোনও দিন দু’জন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

সরকারি হিসাবে, শেষ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০-এর বেশি রোগী-অধিকাংশই শিশু- বাড়িতে চিকিৎসা পেয়েছে। ৬৩০ জনের বেশি রোগীকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বাড়ি ফিরেছে এবং প্রায় ৩০ জন তখনও হাসপাতালে ভর্তি ছিল।

টিকাদানও জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়। সরকারি নথিতে কোনও কোনও এলাকায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ টিকাদানের তথ্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা এমন শিশু পেয়েছেন, যাদের টিকাদানের কোনও রেকর্ড নেই এবং যাদের পরিবার টিকা দিতে অনাগ্রহী।

ফলে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে আগের টিকার রেকর্ড থাকুক বা না থাকুক, হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিরসা এলাকায় শনাক্ত প্রায় ৪০ হাজার শিশুর মধ্যে আনুমানিক ২৭ হাজারকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এলাকার ১৮০টি গ্রামের মধ্যে প্রায় ৬৭টি গ্রামে বাইগা জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা বেশি।

কমেছে সংক্রমণ, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে
কর্মকর্তাদের মতে, সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং শেষ মূল্যায়নের দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে সর্বশেষ শিশুমৃত্যু ঘটে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনও গ্রামগুলোতে যাচ্ছেন।

কুন্দেকাসায় একসময় প্রতিদিন প্রায় ১২০ শিশু চিকিৎসা নিতে আসত; সম্প্রতি সেখানে রোগীর সংখ্যা কমে ১০-এর নিচে নেমেছে।

তবে এই সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু টিকা বা জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যন্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবহনব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মাতলায় ফিরে বামিতার মা কৌশিলা তার মেয়ের স্মৃতি মনে করেন- মিষ্টি বা নাশতার জন্য টাকা চাইত, বোনের সঙ্গে খেলত, আবার গাড়ি দেখলেই ভয় পেয়ে ঘরের ভেতর দৌড়ে ঢুকে যেত।

কৌশিলা বলেন, “আমি আশা করেছিলাম, সে পড়াশোনা করবে, জীবনে কিছু করবে। আমার ছেলে হয়নি- এ জন্য কখনও আফসোস করিনি।”

এরপর বেঁচে থাকা মেয়ে অঙ্কিতার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “আমি আরও সন্তান চাই। আমি একা হয়ে গেছি। অঙ্কিতাও একা। সে তার বোনের জন্য কাঁদতেই থাকে।” সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights