ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
যেকোনও দেশ ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে তেল বা গ্যাস কিনলেই তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার তিনি এই ঘোষণা দেন।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—উভয়ের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন এবং আর্থিকব্যবস্থা ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্প এদিন তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের লালিত স্বাধীনতার প্রতি ভেনিজুয়েলা অত্যন্ত শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করেছে। তাই কোনও দেশ যদি ভেনিজুয়েলা থেকে তেল অথবা গ্যাস ক্রয় করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের করা যেকোনও বাণিজ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে বাধ্য হবে।”

এর আগে গত মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, কারাকাস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যেখানে দ্রুত ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের গ্রহণ করার কথা ছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনিজুয়েলায় নির্বাসিতদের পাঠানোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং ভেনিজুয়েলাও জানায়, তারা আর এসব ফ্লাইট গ্রহণ করবে না।

তবে কারাকাস শনিবার ঘোষণা দেয়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ ভেনিজুয়েলীয় নাগরিককে নির্বাসিত করেছে, যারা হন্ডুরাসের মাধ্যমে দেশে ফিরে গেছেন।

এই চুক্তি হয় তখন, যখন ১৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র দুই শতাধিক ভেনিজুয়েলীয়কে এল সালভাদরের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার ও শ্রম শিবিরে পাঠায়। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছিল, তারা সবাই কুখ্যাত অপরাধী গোষ্ঠী ট্রেন ডি আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য। ট্রাম্প তখন কথিত গ্যাং সদস্যদের বিতাড়িত করতে যুদ্ধকালীন ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্ক আরোপ করছে ‘বিভিন্ন কারণের জন্য, যার মধ্যে একটি হলো ভেনিজুয়েলা কৌশলে ও প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার উচ্চ পর্যায়ের অপরাধী ও অন্যান্য অপরাধীদের গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সব নথিপত্র স্বাক্ষরিত ও নিবন্ধিত হবে এবং এই শুল্ক আগামী ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘মুক্তি দিবসে’ কার্যকর হবে। ট্রাম্প এই দিনটিকে বিশেষ উপাধি দিয়ে উল্লেখ করেন। কারণ তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, সেদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ওয়াশিংটনের মতে, অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া। এরই মধ্যে তিনি চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মারাত্মক ফেন্টানিল প্রবাহ বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে এবং বাণিজ্য ভারসাম্যের অসঙ্গতির যুক্তি দেখিয়ে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি কম্পানি শেভরনকে ভেনিজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম এক মাসের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়, যা দেশটির অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় আঘাত। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights