মাদারগঞ্জের দুই যুবক রাশিয়ায় নিখোঁজ
জামালপুর প্রতিনিধি
জীবিকার সন্ধানে দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। ১৭ দিন ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ড্রোন হামলায় তাঁদের নিহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনরা আহাজারি শুরু করেছেন। নিখোঁজ যুবক মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে এবং একই উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (২৭)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে চাঁদপুরের এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান মাফুল। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করার কথা থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছার পর তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। স্বজনদের দাবি, ওই দালাল চক্র তাঁকে অর্থের বিনিময়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ ২৯ মে মাফুলের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারে, ড্রোন হামলায় মাফুল নিহত হয়েছেন। মাফুলের বোন কণিকা বলেন, ‘দালালরা আমার ভাইকে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে যায়। আমার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন সেখানে গিয়েছিল। পরে জানতে পারি, তাঁদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমার ভাই ফোনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমাদের বাঁচাও। কিন্তু আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি। এখন শুনছি, সে মারা গেছে। আমরা আমার ভাইয়ের লাশ দেশে ফেরত চাই।’
অপরদিকে একই উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছাড়া গ্রামের আরিফ হোসেন ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান। আরিফের পরিবার জানায়, আরিফকে স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। ওই দালাল আরিফকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছার পর দালাল চক্র প্রতারণার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয় এবং তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ২৯ মে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল আরিফের। এরপর আরিফের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারে, ড্রোন হামলায় আরিফ মারা গেছে। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে, তবে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
