মাদুরোকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেজ এবং ছেলে নিকোলাস আর্নেস্টো মাদুরো গুয়েরার বিরুদ্ধে শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টে মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ পেশ করা হয়েছে। এ সময় মাদুরো এবং সিলিয়াকে কোর্টে সোপর্দ করা হলেও তাদের ছেলে আর্নেস্টোকে দেখা যায়নি।

২৫ পাতার অভিযোগপত্র একইসঙ্গে জনসমক্ষেও প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা সস্ত্রীক প্রেসিডেন্টকে আটক করে নিউইয়র্কে আনেন। মাদক পাচারের অভিযোগ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মাদক-সন্ত্রাসের অভিযোগও রয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে মার্কিন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন।

মাদুরো দম্পতিকে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ উপলক্ষে শনিবার অপরাহ্নে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে মার্কিন আদালতে। একইসময়ে হোয়াইট হাউসের সম্মুখে, নিউইয়র্ক সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক স্থানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন আমেরিকানরা। ‘যুদ্ধবিরোধী আন্তর্জাতিক জোট’-এর ব্যানারে আজ রবিবারও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের কথা জানানো হয়। বিক্ষোভ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এহেন অভিযানকে বেআইনি ও অবৈধ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি এ ধরনের আগ্রাসী তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধুহীন করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

মাদুরোকে তুলে আনার বিরুদ্ধে ইউএস সিনেটে ডেমক্র্যাট নেতারাও ক্ষোভ জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি টেলিফোন করে মাদুরোকে গ্রেফতার এবং নিউইয়র্কে আনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের দ্বিমতের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।

তবে মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে আনন্দমিছিল করেছেন ফ্লোরিডায় বসবাসরত ভেনেজুয়েলার লোকজন। তারা উল্লেখ করেন যে, মাদুরো দম্পতি জোর করে ক্ষমতা দখল করে ভেনেজুয়েলাকে তাদের অন্যায়-অপকর্মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দূরের কথা, মাদুরো চক্রের অপকর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করাও ছিল একধরনের অপরাধ। বহুদিন ধরেই এমন একটি পদক্ষেপের প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। এজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদসূচক ব্যানারও বহন করেছেন আনন্দ-উল্লাসকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights