মাদুরোকে ধরতেই আমেরিকার তিন বিলিয়ন ডলার শেষ!

ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উপস্থিতি ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় আমেরিকান করদাতাদের পকেট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

গত জানুয়ারির শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের পর থেকেই দেশটিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের অজুহাতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর বিশাল বহর মোতায়েন রেখেছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি মাদুরো দম্পতি তাদের বিরুদ্ধে আনা মাদক-সন্ত্রাস ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন সেখানে একটি ‘সুশৃঙ্খল রূপান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই অভিযানে বাড়তি কোনো খরচ হচ্ছে না। তবে নৌবাহিনীর দৈনিক ব্যয় বিশ্লেষণ করে ব্লুমবার্গ দেখিয়েছে যে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিনের খরচ ২০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ইউএসএস ফোর্ড স্ট্রাইক গ্রুপের পেছনেই প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ১১.৪ মিলিয়ন ডলার। ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং লজিস্টিক জাহাজের এই বিশাল উপস্থিতির মূল লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি মন্তব্য করেছেন, আমেরিকা আসলে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিতে চায় এবং সারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ রুটগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights