মেক্সিকোর বিপক্ষে হারলেও ‘চিন্তা নেই’ ইংল্যান্ড কোচ টুখেলের, তৈরি আছে ‘অজুহাত’

স্পোর্টস ডেস্ক

কঙ্গোর বিপক্ষে হ্যারি কেইনের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে কোনোমতে রক্ষা পেয়ে চলতি ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড। তবে সামনেই অপেক্ষা করছে স্বাগতিক মেক্সিকো, যারা এই মুহূর্তে মাঠের পারফরম্যান্সে রীতিমতো উড়ছে। বুধবারের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানের জয়টি টমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক না হলেও নকআউট পর্বে জয়ই শেষ কথা।

কিন্তু রাউন্ড অব সিক্সটিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচকে মেক্সিকোর দুর্দান্ত ফর্মের চেয়েও বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অন্য একটি বড় অনুষঙ্গ— মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক উচ্চতা। যদি এই ম্যাচে ইংল্যান্ড হেরেও যায়, তবে টুখেলের কাছে ইতিমধ্যেই এক অকাট্য এবং বাস্তবসম্মত ‘অজুহাত’ তৈরি হয়ে আছে।

আসন্ন রবিবারের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক দর্শকদের গগনবিদারী সমর্থনের পাশাপাশি এই মাঠের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২২২ ফুট উঁচুতে অবস্থিত আসতেকা স্টেডিয়ামটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত ভেন্যু।

কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এই বৈরী কন্ডিশন নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন টমাস টুখেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে মেক্সিকোর এই পাহাড়ি উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়া (অ্যাক্লাইমেটাইজড) যেকোনো অ্যাথলেটের জন্যই শারীরিকভাবে অসম্ভব। টুখেল বলেন, আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমাদের জন্য একের পর এক বাধা অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে সেখানকার উচ্চতা আমাদের জন্য মস্ত বড় এক অসুবিধা হতে যাচ্ছে। কারণ মাত্র চার দিনে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব। আমাদের হাতে ম্যাচ দুটির মাঝে মাত্র তিন দিন সময় রয়েছে। এত কম সময়ে উচ্চতার ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া শারীরিকভাবে সম্ভব নয়। এটি মেক্সিকোর জন্য এক বিশাল বাড়তি সুবিধা। তবে এই প্রতিকূলতা জেনেই আমাদের মাঠে নামতে হবে এবং আমরা মানসিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

ইংলিশ কোচের এই দুশ্চিন্তা পুরোপুরি অমূলক নয়। মেক্সিকো সিটির পাতলা বাতাস এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে ইংলিশ ফুটবলাররা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং হাই-অল্টিটিউড সিকনেস বা উচ্চতাজনিত শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে পারেন। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মেক্সিকোর বিপক্ষে নামার আগে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশেষভাবে পাহাড়ি এলাকায় অনুশীলন করেছিল, তবু মেক্সিকোর কাছে হার এড়াতে পারেনি তারা। এমনকি নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশে ইকুয়েডরও উচ্চতায় অভ্যস্ত দল হওয়া সত্ত্বেও মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে।

ফলে রবিবারের মহাদ্বৈরথে মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও আসতেকার ভৌগোলিক পরিবেশই ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights