যে খেয়া পারাপারে লাগে না মাঝি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
একসময় নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল খেয়াঘাট আর মাঝির নৌকা। ভাটিয়ালি, মারফতি ও মুর্শিদি গানের সুরে মুখর থাকত নদীপথ। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই অতীত। তবে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ঘাঘট নদীতে এখনো রয়েছে এক ব্যতিক্রমী খেয়া, যেখানে পারাপারের জন্য কোনো মাঝির প্রয়োজন হয় না। যাত্রীরাই দড়ি টেনে নিজেরাই খেয়া চালিয়ে নদী পার হন।
সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের গরান পূর্বপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভরা বর্ষায় ঘাঘট নদীতে কুলকুল শব্দে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর ওই অংশের প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার এবং স্থানীয়দের মতে, গভীরতা ৪০ হাতেরও বেশি। নদীর এক পাশে মিঠাপুকুর উপজেলা, অন্য পাশে পীরগাছা উপজেলার জঙ্গলাপুর এলাকা।
নদীর দুই তীরে স্থাপিত খুঁটির সঙ্গে একটি দড়ি বাঁধা রয়েছে। সেই দড়ির সাহায্যে বাঁশের তৈরি খেয়াটি এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে নেওয়া হয়। ওপারে যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা খেয়ায় উঠে দড়ি টেনে নিজেরাই পারাপার করেন। স্থানীয়রা এই খেয়াকে ‘মার’ নামে ডাকেন।
পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছ মিয়া, দুলাল মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, গ্রামটিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশ বাসিন্দার আবাদি জমি নদীর ওপারে। কিছু জমি মিঠাপুকুর অংশে থাকলেও বেশির ভাগ জমি পীরগাছা উপজেলায়। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা ও ঘরে তোলা পর্যন্ত সব কাজেই তাদের এই খেয়া ব্যবহার করতে হয়।
তারা বলেন, এখানে কোনো মাঝি নেই। সবাই দড়ি টেনে নিজেরাই খেয়া চালিয়ে ওপারে যান এবং কাজ শেষে একইভাবে ফিরে আসেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এভাবে নদী পারাপার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘাঘট নদীতে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষাকালে পানির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। প্রায় সাত বছর ধরে এভাবেই খেয়াটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতো। কিন্তু প্রতি বছর সাঁকো মেরামতে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ায় পরে বাঁশের তৈরি এই দড়িচালিত খেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে খেয়া থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বোল্ডার ফেলে নদীর তীর সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
