রমজানের আনন্দ ফিকে করছে বাজারের উত্তাপ: দিশেহারা দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

পবিত্র রমজান মাসে দিনাজপুরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। ইফতারের অতিপ্রয়োজনীয় ছোলা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের চাল-ডাল, সবজি কিংবা মাংস সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের এই মাসে সওয়াব আর ইবাদতে মগ্ন হওয়ার বদলে সাধারণ ক্রেতাদের বড় অংশই এখন পার করছেন দুশ্চিন্তার প্রহর।
(২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার ও চক বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে: ৮০ টাকার ছোলা ঠেকেছে ১০০ টাকায়। লেবুর হালি দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-৮০ টাকায়। খেজুরের দাম প্রকারভেদে বেড়েছে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
কাঁচা মরিচের ঝাল বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। বেগুন ও শসার দামও এক লাফে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়।
মধ্যবিত্তের ভরসা ব্রয়লার মুরগিও এখন ১৮০ টাকা কেজি। আর গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৭৫০ টাকায় পৌঁছানোয় সাধারণের পাতে মাংস ওঠা এখন বিলাসিতা মাত্র।
বাজার করতে আসা নূর নাহার বেগম ও তরিকুল ইসলামের মতো সাধারণ মানুষের কন্ঠে ফুটে উঠেছে অসহায়ত্বের সুর। তাদের মতে, আয় না বাড়লেও ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এক চরম পরীক্ষা।
সাধারণ ক্রেতা তরিকুল ইসলাম জানান, যে হারে দাম বেড়েছে, তাতে পরিবারের সদস্যদের ইফতারের প্লেটে টান পড়বে।
এই বাক্যটি কেবল একজনের ক্ষোভ নয়, বরং এটি বর্তমান বাজারের বাস্তব চিত্র। ইফতারের টেবিলে একটু ভালো খাবারের আশায় বাজারে এসে মানুষ ফিরছে শূন্য হাতে অথবা কাটছাঁট করা বাজারের থলে নিয়ে। অনেকের কাছেই রমজান এখন কেবল ত্যাগের নয়, বরং অভাবের সাথে যুদ্ধের মাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানাচ্ছে যে তারা নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, তবে সাধারণ মানুষের দাবি আরও জোরালো নজরদারির। ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই কৃত্রিম সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
রমজান মানেই সংযম। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পণবন্দী করে ফেলছে। প্রশাসনের উচিত কেবল জরিমানা নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থার শেকড়ে গিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা করা।
দিনাজপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রমজানের বাকি দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ইফতারের প্লেটে যেন কেবল তৃষ্ণা মেটানোর পানি নয়, বরং পরিবারের সবার মুখে সামান্য তৃপ্তির হাসিও ফুটে ওঠে এমনটাই কাম্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights