রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ২০টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। তবে হাটগুলোতে এখনো চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতির কাজ।

গতকাল সাঈদনগর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটটিতে ২ শতাধিক গরু উঠেছে। বিক্রেতারা গরুর পরিচর্যা করছেন। তবে এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। হাটটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ। একই অবস্থা পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটের। হাটটিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে পশু। এ হাটটিতেও প্রস্তুতির কাজ চলছে। উত্তরা দিয়াবাড়ী হাটটিতে শতাধিক পশু এসেছে।

মানুষ আসছে, দরদাম করেই চলে যাচ্ছে। মেরাদিয়া হাটেও চলছে প্রস্তুতির কাজ। এর মধ্যে লাইটিংসহ বাকি কাজগুলোও আগামী দু-এক দিনেই শেষ হবে। ইতোমধ্যে এ হাটে গরু বাঁধার জন্য বাঁশের খুঁটির কাজও শেষের দিকে। পুরো মাঠে ত্রিপল লাগানো হয়েছে, যাতে বৃৃষ্টিতে কোনো পশু না ভিজে যায়। তবে হাটের প্রচার বাড়াতে বনশ্রী, রামপুরা, খিলগাঁও, বাসাবো, গোড়ান, নন্দীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সুবিশাল সব তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার-ফেস্টুন। তবে হাট শুরুর বেশ আগেই গরু নিয়ে চলে আসা সম্পর্কে খামারিরা জানান, রাস্তাঘাটে যানজটের কারণে অনেক সময় গরু আনতে দেরি হয়। ট্রাকে থাকা গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে, কোনো কোনো সময় গরু মারা যায়। আবার হাটে জায়গা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বিষয়কে মাথায় রেখে এবার তারা আগাম এসেছেন।
নাটোর থেকে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, এবার একটু আগেই চলে এসেছি। কারণ কয়েকদিন পর রাস্তায় যানজট শুরু হবে। এই যানজটের কারণে গরু দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে রাখতে হয়। এতে গরু অসুস্থ হওয়াসহ নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ ছাড়া কয়েকদিন পর এলে হাটে জায়গা পাওয়া যায় না। আর যেসব জায়গা পাওয়া যায় সেখানে গরু রাখা যায় না। পাবনার রুবেল জানান, তিনি ১০টি দেশি গরু নিয়ে এসেছেন। প্রথমদিকে ক্রেতা ভালো পাওয়া যায়। দাম যা চাওয়া যায় তাই মেলে। এ ছাড়া হাটে দেরিতে এলে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়। আগে আসায় গরুর যত্ন করা যায়। আর সুন্দর করে থাকার জায়গাও করে নেওয়া যায়। এসব ভেবে তিনি আগাম এসেছেন।

রাজধানীতে বসছে ২০ পশুর হাট : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকায় এবার বসছে ২০টি পশুর হাট। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে সারুলিয়া স্থায়ী হাটসহ ১১টি এবং উত্তরে গাবতলী স্থায়ী হাটসহ ৯টি। ইতোমধ্যে দক্ষিণ সিটি ১০টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে। আর উত্তর সিটি ৫টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে।

অনলাইন গরুর হাটেও নজরদারি থাকবে : ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, গরুর হাটগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি অনলাইন গরুর হাটগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপির সাইবার টিম। ঢাকার ভিতরে পশুর হাটে যারা (স্বেচ্ছাসেবীসহ হাট ইজারাদার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কাজ করবেন তাদের সমন্বয় থাকবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির ব্যাপারে ডিবির টিম সজাগ থাকবে। হাট ও হাটের আশপাশে এমন অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির ব্যক্তি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি জাল টাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা তাদের জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন পশুর হাটগুলোতে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights