রাবিতে অস্ত্রের মহড়া: হলে পুলিশের তল্লাশি, শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে রামদা, রড ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে। সোমবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সোহরাওয়ার্দী ও মাদার বখস হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে সংকট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ না দেখায় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া কাম্য নয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অবিলম্বে এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা জরুরি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘উদ্ভুত এই সমস্যা একটি সংগঠনের। এই সংগঠন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্ত কমিটি গঠন ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়টি হল প্রশাসন দেখছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩ মে মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সোহরাওয়ার্দী হলে নেতাকর্মী নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ প্রবেশ করেন। পথে হল ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত নেতা আতিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয়। আতিকুরের অভিযোগ, ‘নিয়াজ মোর্শেদ বহিরাগতদের নিয়ে হলে প্রবেশ করেন এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেন। হলে হাত-পা ভেঙে ফেলতে চান। তখন আমি হলের বাহিরে আসি।’

এ ঘটনায় রাত ২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারীরা লাঠিসোটা, রড, রামদা সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে শেষ রাত পর্যন্ত মহড়া দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং হলে পুলিশসহ তল্লাশি চালিয়ে অনাবাসিক ২০ শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দেয় হল কর্তৃপক্ষ।

হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছেন। তারা পরবর্তী সম্ভাব্য পদপ্রার্থীদের বিতাড়িত করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চান। এজন্য তারা হলের চলমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার পদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে অন্যদের হেয় করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের ডেকে ডেকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে অভিযোগ তুললে উল্টো বিভিন্ন ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত না হলে এমন হতো না।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে না। বরং তিনিই (নিয়াজ) দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে।’

অস্ত্রের মহড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বহিরাগত নিয়ে হলে কোন বিশৃঙ্খলা যাতে না করতে পারে সেজন্য আমরা অবস্থান নিয়েছি। সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে অবিহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে পদার্থ বিভাগের অধ্যাপক সালেহ আহমেদ নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র মোটেও কাম্য নয়। তাছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি সমর্থিত ছাত্র সংগঠনকে যেভাবে দেখা হয়, অন্যদের সেভাবে দেখা হয় না। ফলে সরকার সমর্থিরা প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশৃঙ্খলা করলেও ছাড় পেয়ে যায়। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তায় অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

হল প্রাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ হলকক্ষগুলোতে অভিযান চালিয়ে অনাবাসিক ২০ শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে বিকেলে হল প্রশাসনের সভা হবে। এতে তদন্ত কমিটি গঠন সহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এর আগে, গত ১১ মে শহিদ সোহরাওয়ার্দী হলে অতিথি কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে রাতভর সংঘর্ষে জড়ায় শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষ। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ সহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাত ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় ১৩ মে সভা ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেই ক্ষান্ত থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights