রেফারির সিদ্ধান্তে প্রতিপক্ষ ক্ষেপলেও আত্মতুষ্টিতে বার্সা কোচ

যে ধরনের ফাউল থেকে পেনাল্টি পেল বার্সেলোনা, প্রায় একই ধরনের ঘটনায় পেনাল্টি পেল না রায়ো ভাইয়েকানো। আরেকবা বল জালে পাঠিয়েও তারা পেল না গোল। সবকিছু মিলিয়ে রেফারিং নিয়ে হতাশ রায়ো ভাইয়েকানোর কোচ ইনিগো পেরেস। বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক অবশ্য এখানে প্রশ্নের অবকাশ দেখছেন না। ভিএআর নিয়ে তার কোনো সংশয়ই নেই।

লা লিগার ম্যাচটিতে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রায়োকে ১-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। ৪২তম মিনিটে বল জালে পাঠান রায়োর হোর্হে দে ফ্রুতোস। কিন্তু অফ সাইডের কারণে গোল দেননি রেফারি। যদিও দে ফ্রুতোস কোনোভাবেই অফ সাইডে ছিলেন না। বরং অফ সাইডে ছিলেন এনতেকা, যিনি বলের কাছে ছিলেন না বা যাওয়ার চেষ্টাও করেননি। তবে বার্সেলোনার ডিফেনডার ইনিগো মার্তিনেসের সামনে বাধা হয়ে ছিলেন তিনি। এই কারণে অফ সাইড দেওয়া হতে পারে। তবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন-সংশয় আছে অনেক।

এছাড়াও আরেকবার বার্সেলোনার পাউ কুবার্সি বক্সের ভেতর এমনভাবে ফেলে দেন রায়োর পাথি সিসকে, যেটা অনেকটা লেভানদোভস্কির পেনাল্টির মতো ফাউলই মনে হয়েছে রায়োর কাছে। কিন্তু পেনাল্টি দেননি রেফারি। রায়োর ফুটবলারদের বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায় তখন। রেফারির দুইটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছাড়াও সুযোগ পেয়েছে রায়ো। ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ বা নানা পরিসংখ্যানে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও বেশি বিপজ্জনক ছিল রায়োই। কিন্তু গোল তারা আদায় করতে পারেনি। এমনকি যোগ করা সময়েও খুব কাছ থেকে হেড থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন দে ফ্রুতোস।

টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেল রায়ো। ম্যাচ শেষে সরাসরি রেফারিকে কাঠগড়ায় না তুললেও তার দিকে ঠিকই আঙুল তুললেন কোচ ইনিগো পেরেস। তিনি বলেন, “আজকের রেফারিং নিয়ে ভাবনা আমি নিজের কাছেই রাখতে চাই। তবে সবারই উচিত এমন আচরণ করা, যা তাদের করা উচিত বা যেভাবে উচিত বলে তারা বিশ্বাস করে। হারের যন্ত্রণা তো সবসময় থাকেই। তবে আজকে যা কিছু হয়েছে এবং আমরা যেভাবে খেলেছি, এরপর আমার শান্ত হতে অনেক সময় লাগবে। এই মুহূর্তে, একমাত্র যে শব্দটি খুঁজে পাচ্ছি, তা হলো তিক্ততা…।”

বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের কোনো আপত্তি নেই রেফারির সিদ্ধান্ত বা ভিএআর দেখা নিয়ে। তিন পয়েন্ট পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, “ঘটনাগুলি আরেকবার দেখার সুযোগ এখনও হয়নি আমার। তবে আমি সবসময় ভিএআর-এর পাশে থাকি। ভিএআর আছে আমাদের এবং আমি এতে আস্থা রাখি। সবকিছু নিয়ে আমি এটুকুই বলতে পারি। আমরা খুশি যে তিন পয়েন্ট পেয়েছি, কারণ দারুণ এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কঠিন এক লড়াই ছিল এটি। রায়ো খুব ভালো ফর্মে আছে এবং ভালো খেলছে। আমাদের ছেলেদের জন্য ম্যাচটি ছিল কঠিন, ওদের নিয়ে আমি গর্বিত।”

এই জয়ের পর ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়েও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে দুইয়ে রেয়াল মাদ্রিদ। এক পয়েন্ট কম নিয়ে তিনে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights